গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোপালগঞ্জ ও গাজীপুরজুড়ে। নিহতদের মরদেহ রোববার (১০ মে) সকালে গোপালগঞ্জে পৌঁছালে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে জানাজা শেষে মা, তার তিন সন্তান ও ভাইকে গ্রামের বাড়িতে পাশাপাশি পাঁচটি কবরে দাফন করা হয়।
রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মরদেহবাহী দুটি ফ্রিজিং ভ্যান গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামে পৌঁছায়। এ সময় স্বজনদের শেষবারের মতো দেখতে শত শত মানুষ ভিড় জমান। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
নিহতরা হলেন— শারমিন আক্তার (৩০), তার তিন মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)।
বেলা ১১টার দিকে পাইককান্দি পঞ্চপল্লী মাদ্রাসা মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী অংশ নেন। জানাজা শেষে উত্তর চরপাড়া নতুন কবরস্থানে পাশাপাশি পাঁচটি কবরে তাদের দাফন করা হয়। একই পরিবারের পাঁচজনের একসঙ্গে দাফনের দৃশ্য উপস্থিত মানুষকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
শনিবার সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে পাঁচজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট, টাইপ করা অভিযোগপত্র এবং মাদকসেবনের কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত শারমিনের স্বজনদের অভিযোগ, পারিবারিক কলহ এবং স্বামী ফোরকান মিয়ার সন্দেহপ্রবণ আচরণের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলেও দাবি তাদের। ঘটনার পর থেকেই ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ফোরকান মিয়া কয়েকজন স্বজনকে ফোন করে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এরপর তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দ্রুত ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ, ডিবি, পিবিআই ও সিআইডি যৌথভাবে কাজ করছে। প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



