মানিকগঞ্জের ঘিওরে রাতের আঁধারে একটি পেঁপেবাগানে ঢুকে কাস্তে দিয়ে কাঁচা পেঁপে কেটে মাটিতে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। বাগান থেকে পেঁপে নিয়ে না গেলেও নষ্ট করা হয়েছে কৃষক সাদেক মিয়ার প্রায় ৪০ মণ কাঁচা পেঁপে। পাশাপাশি বীজ সংরক্ষণের জন্য রাখা ৫০টি পাকা পেঁপের মধ্যে ৪০টি চুরি করে নিয়ে গেছে তারা।
এ ঘটনায় ওই কৃষকের অন্তত ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে ঘিওর উপজেলা সদরের পশু হাসপাতালের পেছনে ধলেশ্বরী নদীর উত্তরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩০ শতাংশ জমির ওই বাগানে প্রায় ২৭০টি পেঁপেগাছ রয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে বাগানে গিয়ে সাদেক মিয়া দেখতে পান, গাছের কাঁচা পেঁপেগুলো কাস্তে দিয়ে কেটে এবং কিছু হাত দিয়ে ছিঁড়ে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। বাগানের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নষ্ট পেঁপে। কয়েকটি গাছও কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
এ ছাড়া বীজ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আলাদা করে চিহ্নিত করে রাখা ৫০টি পাকা পেঁপের মধ্যে ৪০টির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। প্রতিটি পাকা পেঁপের ওজন ছিল প্রায় ৬ কেজি; সব মিলিয়ে সংরক্ষণের জন্য রাখা পাকা পেঁপের পরিমাণ ছিল ৩০০ কেজি।
ক্ষতির পরিমাণ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন কৃষক সাদেক মিয়া। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও নিজের পুঁজি ব্যয় করে বাগানটি গড়ে তুলেছিলেন। এবার ভালো ফলনের প্রত্যাশা ছিল তার। কিন্তু এক রাতেই দুর্বৃত্তরা ব্যাপক ক্ষতি করে দিয়েছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে বাগানটি পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাশিতা-তুল ইসলাম জানান, কৃষকের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সরকারি বরাদ্দ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে চাল, ডাল, আটা ও লবণ দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে।
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মুহব্বত কবীর বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে। তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



