বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে বৈদেশিক বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হারও নিয়মিত ওঠানামা করছে।
বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ডলারের দাম বাড়ানো এবং টাকার মান সমন্বয় করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসে দেশের আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম গড়ে প্রায় ১ টাকা বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বিনিময় হার ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। বর্তমানে ডলারের সর্বোচ্চ দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আজকের (২৩ জুলাই ২০২৬) বৈদেশিক মুদ্রার সর্বনিম্ন বিনিময় হার হলো—
মুদ্রার নাম — বাংলাদেশি টাকা
- ইউএস ডলার: ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা
- ইউরো: ১৪১ টাকা ৯৫ পয়সা
- পাউন্ড: ১৬৫ টাকা ৫৩ পয়সা
- কানাডিয়ান ডলার: ৮৮ টাকা ১২ পয়সা
- অস্ট্রেলিয়ান ডলার: ৮৬ টাকা ১০ পয়সা
- চীনা ইয়েন: ১৮ টাকা ৩১ পয়সা
- সিঙ্গাপুরি ডলার: ৯৬ টাকা ০৪ পয়সা
- ভারতীয় রুপি: ১ টাকা ২৯ পয়সা
- মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ২৯ টাকা ৯৮ পয়সা
- সৌদি রিয়াল: ৩২ টাকা ৪৩ পয়সা
- কাতারি রিয়াল: ৩৩ টাকা ৮৬ পয়সা
- কুয়েতি দিনার: ৩৯৫ টাকা ০৩ পয়সা
- সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম: ৩৩ টাকা ৪০ পয়সা
বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও আনুষ্ঠানিক বিনিময় হারের ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। তবে আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের দাম কিছুটা বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে ডলারের সর্বনিম্ন দর ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। বর্তমানে তা বেড়ে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। ডলারের এই মূল্যবৃদ্ধি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের ওপর কিছুটা বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।



