tanaka

ভারতে নানকের কাছে মাসে যায় কোটি টাকা, নেপথ্যে কারা

পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের কাছে বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বরিশাল ও...
প্রচ্ছদটপ নিউজ৩ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, ঝুঁকিতে হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ

৩ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, ঝুঁকিতে হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ

টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জ জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এর মধ্যে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই নদীর গেট খুলে দেওয়ায় জেলার খোয়াই নদীতে পানির প্রবাহ আরও বেড়েছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার পাশাপাশি উদ্বেগ বেড়েছে হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ নিয়েও।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ৩টা পর্যন্ত খোয়াই নদীর চুনারুঘাটের বাল্লা সীমান্ত পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার এবং কালনী-কুশিয়ারা নদীর আজমিরীগঞ্জ পয়েন্টে ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জেলার প্রায় সব নদীর পানি বাড়ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থা খোয়াই নদীর বাল্লা সীমান্ত পয়েন্টে। তবে একই নদীর হবিগঞ্জ শহরের মাছুলিয়া পয়েন্টে পানি এখনও বিপৎসীমার ২৯৭ সেন্টিমিটার এবং শায়েস্তাগঞ্জ পয়েন্টে ৩৫৯ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। যদিও দুই স্টেশনেই পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অন্যদিকে, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর (নবীগঞ্জ) পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার এবং মার্কুলী (বানিয়াচং) পয়েন্টে ১৯ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। ফলে মার্কুলী পয়েন্টও ঝুঁকির কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

এ ছাড়া ধলেশ্বরী নদীর লাখাইয়ের মাদনা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার, সুতাং নদীর সুতাং ব্রিজ পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার এবং সোনাই নদীর মাধবপুরের মনতলা পয়েন্টে ৩৮৮ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও সবকটি নদীতেই পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হবিগঞ্জে ১০৯ দশমিক ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, উজানে ভারতের ত্রিপুরা এবং দেশের অভ্যন্তরে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতের খোয়াই নদীর চাকমা গেট খুলে দেওয়ায় খোয়াই নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে কালনী-কুশিয়ারার পানিও একদিন আগে বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে জেলার প্রায় সব নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে।

তিনি জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। দুর্বল স্থানগুলোতে ভাঙনের আশঙ্কা থাকায় নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার নিম্নাঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে বন্যা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।

তবে হবিগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত বন্যার কোনো আনুষ্ঠানিক পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।