tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়মেধা দিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান ঢাকার ডিসির

মেধা দিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান ঢাকার ডিসির

শিক্ষাজীবনে ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে মেধা কাজে লাগানোর জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।

রোববার ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও এর অধীন বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের মধ্যে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করা ১৩ শিক্ষার্থীকে অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

ফরিদা খানম বলেন, শুধু মেধাবী হয়ে বিদেশে গিয়ে ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ গড়াই শিক্ষার্থীদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতাকে দেশের কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে দেশ গড়ার নেতৃত্ব দেওয়ার মতো দক্ষ হয়ে উঠতে হবে।

কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, জিপিএ-৫ জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়; এটি সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তাই এখানেই থেমে না থেকে আরও বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি মেধাবীদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি ড. এফ আর খান, জাওয়েদ করিম, সালমান খান, ড. আতাউল করিম, ড. জাহিদ হাসান ও তাহমিমা আনামের মতো ব্যক্তিদের উদাহরণ দেন। তার মতে, বাংলাদেশি তরুণদের মেধা ও সক্ষমতার পরিসর অনেক বড় এবং সেই শক্তিকে দেশের সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

ফরিদা খানম আরও বলেন, ভবিষ্যতে বিশ্ব যেন শুধু বাংলাদেশি মেধাবীদের নামেই পরিচিত না হয়, বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি ও ব্র্যান্ডের নামও যেন আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পরিচয়ে বিশ্ববাজারে জায়গা করে নিতে পারে—এমন প্রতিষ্ঠান তৈরির স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, তরুণদের লক্ষ্য শুধু চাকরি পাওয়া হওয়া উচিত নয়; বরং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। একইভাবে শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার না করে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদেশি ব্র্যান্ড ব্যবহারের পাশাপাশি নিজস্ব ব্র্যান্ডকে বিশ্ববাজারে পরিচিত করার চেষ্টা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফারজানা রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শামীমা সুলতানা, স্টাফ অফিসার টু ডিসি মো. ইসরাফিল জাহান এবং সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।