tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিককলকাতার মুসলিম কলোনিতে ৪৬ দিন ধরে পানির সংকট, উচ্ছেদের আশঙ্কা বাসিন্দাদের

কলকাতার মুসলিম কলোনিতে ৪৬ দিন ধরে পানির সংকট, উচ্ছেদের আশঙ্কা বাসিন্দাদের

কলকাতার কাশীপুরের জ্যোতিনগর কলোনিতে টানা ৪৬ দিন ধরে সরকারি পাঁচটি পানির নলে পানি নেই। প্রায় ৫ হাজার মানুষের বসতিতে দীর্ঘদিনের এই সংকটে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের পরিবারগুলো। স্থানীয় বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের।

বাসিন্দাদের দাবি, গত ২৯ জুলাই এলাকায় পাইপলাইনের কাজ হওয়ার পর থেকেই কলোনির পানির সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তাদের অভিযোগ, আশপাশের হিন্দুপ্রধান এলাকাগুলোর পানির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও জ্যোতিনগর কলোনির নলগুলোতে এখনো পানি ফেরেনি।

পানির জন্য চরম দুর্ভোগ

দীর্ঘ সময় পানি না থাকায় দৈনন্দিন জীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দূরের এলাকা থেকে ভ্যানে করে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

পানির বিকল্প না থাকায় অনেকে বাধ্য হয়ে গঙ্গার অপরিষ্কার ও কাদাযুক্ত পানি ব্যবহার করছেন। বাসনপত্র পরিষ্কারসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি কাজে এই পানি ব্যবহারের ফলে ত্বকের সমস্যা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে পানির সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে এবং এর পেছনে কলোনি উচ্ছেদের উদ্দেশ্য রয়েছে। নির্বাচনের পর স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারি মুসলমানদের জন্য কোনো কাজ করবেন না বলে প্রকাশ্যে শপথ করেছিলেন—পানির সংকটের সঙ্গে সেই বক্তব্যেরও যোগসূত্র দেখছেন কয়েকজন বাসিন্দা।

তাদের আরও অভিযোগ, পানি বন্ধের পাশাপাশি কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।

জমির মালিক বন্দর কর্তৃপক্ষ

তদন্তে জানা গেছে, জ্যোতিনগর কলোনির জমির মালিক কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ বসতিটিকে অবৈধ দখল হিসেবে উল্লেখ করে উচ্ছেদের নোটিশ দেয়।

এরপর কলোনির বাসিন্দারা আদালতের শরণাপন্ন হন। তাদের আবেদনের পর কলকাতা হাইকোর্ট আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্ছেদ কার্যক্রমের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।

পোর্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, এই বসতির কারণে প্রতি বছর তাদের দুই কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।

বিধায়কের বক্তব্য, পাশে সিপিএম

পানির সংকট ও উচ্ছেদ নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারি বলেছেন, জমিটি পোর্টের মালিকানাধীন এবং বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। ফলে এ বিষয়ে তার করার মতো কিছু নেই।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সমস্যার সমাধানের আশায় তারা পুলিশ ও স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছেও গিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে তাদের দাবি।

এর মধ্যে গত ৯ সেপ্টেম্বর কলোনিটি পরিদর্শন করেন সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি। বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে দলীয় উদ্যোগে নিয়মিত পানি সরবরাহের জন্য একটি ওয়াটার ট্যাংকারের ব্যবস্থা করেন তিনি।

ফলে একদিকে দীর্ঘদিনের পানির সংকট, অন্যদিকে উচ্ছেদ নিয়ে আইনি জটিলতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দারা।

সূত্র: অল্ট নিউজ।