টাঙ্গাইলে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী সুমি আক্তারকে হত্যার মামলায় পুলিশের সাবেক কনস্টেবল আব্দুল আলীম ওরফে সুমনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তার বন্ধু শামীম আল মামুনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিলের শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান এবং আইনজীবী মো. জাহাঙ্গীর আলম ও কে এম এ আল ফাহাদ বিন সগীর।
মামলার দুই আসামি হলেন টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার হিন্নাইপাড়া গ্রামের আবু হানিফের ছেলে আব্দুল আলীম ওরফে সুমন এবং একই এলাকার আবুল হাশেমের ছেলে শামীম আল মামুন।
বাকি যৌতুকের টাকার জন্য নির্যাতনের অভিযোগ
মামলার নথি অনুযায়ী, আব্দুল আলীম তখন শিল্প পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১১ সালের ৬ মে তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ফলিয়ারঘোনা গ্রামের সুলতান আহমেদের মেয়ে সুমি আক্তারকে বিয়ে করেন।
বিয়ের সময় পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দেওয়ার কথা থাকলেও সুমির পরিবার তিন লাখ টাকা দিতে পারে। বাকি দুই লাখ টাকা নিয়ে পরবর্তী সময়ে স্ত্রীকে প্রায়ই নির্যাতন করা হতো বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে সুমিকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন আলীম।
পরে ২০১২ সালের ২০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে শ্বশুরবাড়ি থেকে সুমিকে নিয়ে যান তিনি। এরপর তাকে ঢাকার তুরাগ থানার বেড়িবাঁধ এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে শামীম আল মামুনের সহায়তায় ওড়না গলায় পেঁচিয়ে সুমিকে হত্যা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর আব্দুল আলীমকে গ্রেফতার করা হলে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে নিহত সুমির মা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল থানায় আব্দুল আলীম ও শামীম আল মামুনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার পর আব্দুল আলীমকে পুলিশ কনস্টেবলের পদ থেকেও বরখাস্ত করা হয়।
২০১৯ সালে দুজনেরই মৃত্যুদণ্ড
মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক খালেদা ইয়াসমিন দুই আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেন।
ওই রায়ের পর বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল করেন।
এসব আবেদন ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে রোববার হাইকোর্ট আব্দুল আলীম ওরফে সুমনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। তবে শামীম আল মামুনের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।



