tanaka

নাইন-ইলেভেনের আগেই লাদেনের সম্ভাব্য হামলার তালিকায় ছিল ভারত: সিআইএ নথি

নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আল-কায়েদার সাবেক নেতা ওসামা বিন লাদেনকে ঘিরে শতাধিক পৃষ্ঠার গোপন নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।...
প্রচ্ছদজাতীয়পর্তুগাল-সুইজারল্যান্ডসহ ৫ দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

পর্তুগাল-সুইজারল্যান্ডসহ ৫ দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার, নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডার সিন্ডিকেট এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিক বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তসংক্রান্ত একটি নথিতে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে কালবেলাকে বলেন, ‘আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের এসব অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।’

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে আসিফ মাহমুদ পর্তুগালে জমি কিনেছেন, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ করেছেন এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা করেছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এসব অর্থ দিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বিলাসবহুল ভিলা কেনা ও ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া আসিফ মাহমুদের দুই ভগ্নিপতি ও এক ভাগ্নের মাধ্যমেও বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে। পাঁচ তারকা হোটেলে যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও গাড়ি ব্যবহার এবং হেলিকপ্টারে ভ্রমণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ

অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে নিয়োগে ৫২ কোটি টাকা এবং ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রেও কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।

টেন্ডার ও প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার-বাণিজ্যের সঙ্গেও আসিফ মাহমুদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে।

স্বজন ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

অভিযোগে আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন এবং এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ঘুষ লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা যাচাই করা হবে।