আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচে ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্কের পর অবশেষে এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি বলেছেন, ঘটনার বিস্তারিত পর্যালোচনায় এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা থেকে বলা যায় ভিএআর দল ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো একটি দলকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ফুটবলের সঙ্গে তার সম্পর্ক কয়েক দশকের। রেফারিং, প্রতিযোগিতা পরিচালনা এবং খেলার আইন নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানেন, কোনো সিদ্ধান্ত যখন বিশ্বব্যাপী বিতর্কের জন্ম দেয়, তখন সেটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা দায়িত্বের অংশ।
তিনি জানান, ঘটনাটি তিনি একাধিকবার নয়, দশবারেরও বেশি দেখেছেন। বিভিন্ন ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল, ম্যাচ কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত ভিএআর যোগাযোগ এবং রিপ্লে ফুটেজ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছেন। তার ভাষায়, “আমি এটি করিনি আর্জেন্টিনা বা মিশরকে কেন্দ্র করে। করেছি, কারণ ফুটবলে মতামতের আগে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।”
ফিফা সভাপতির দাবি, তার মূল্যায়নে ভিএআর দল ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো পক্ষকে সুবিধা দিতে চেয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এর অর্থ এই নয় যে সমর্থকদের প্রশ্ন তোলার অধিকার নেই।
ইনফান্তিনো বলেন, “মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই পারে, দ্বিমত পোষণ করতেই পারে। সেটাই ফুটবলের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু মতবিরোধ মানেই ষড়যন্ত্র—এমন ধারণা সঠিক নয়।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ভিএআর প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল কমানোর জন্য, ফুটবল থেকে সব ধরনের বিতর্ক চিরতরে দূর করার জন্য নয়। কারণ খেলায় এমন অনেক মুহূর্ত থাকে, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করে রেফারির বিচার-বিবেচনার ওপর।
মিশর ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে ইনফান্তিনো বলেন, “আমি বুঝতে পারি কেন মিশরের সমর্থকরা হতাশ। একই সঙ্গে এটাও বুঝতে পারি কেন আর্জেন্টিনার সমর্থকরা সিদ্ধান্তগুলোকে সঠিক মনে করেন। এই দুই বিপরীত প্রতিক্রিয়াই দেখায়, এমন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা কঠিন।”
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ কোনো একটি দেশের সমর্থকদের সন্তুষ্ট করা নয়; বরং খেলার আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে, ধারাবাহিকভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
ফিফা সভাপতি জানান, রেফারিং বিভাগ যদি মনে করে কোথাও উন্নতির সুযোগ রয়েছে, তাহলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মতো এই ম্যাচের বিতর্কিত ঘটনাগুলোও পর্যালোচনা করা হবে। তিনি বলেন, “কোনো রেফারি পর্যালোচনার ঊর্ধ্বে নন। কোনো সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণের বাইরে নয়। এভাবেই ফুটবল প্রতিনিয়ত আরও উন্নত হয়।”
বিবৃতির শেষাংশে ফুটবলের প্রতি আস্থা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, “আবেগ থাকবে, বিতর্কও থাকবে। কিন্তু ফুটবলের প্রতি বিশ্বাস গড়ে ওঠে স্বচ্ছতা, ধারাবাহিকতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে—গুজব বা অনুমানের ভিত্তিতে নয়। ফুটবল সবার, আর এর সততা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”



