পায়ের ক্ষত, কাঁটা-কাচের আঘাত কিংবা সংক্রমণ—কোনো বাধাই থামাতে পারেনি আয়ারল্যান্ডের ৩৪ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা ইমন কেভেনিকে। জুতা ছাড়াই ৩৬৯ দিনে ৬ হাজার ৮০৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নিজের হারানো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড পুনরুদ্ধার করেছেন তিনি।
কেভেনির এই দীর্ঘ অভিযাত্রার শুরু হয়েছিল তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নানা ধরনের ভূপ্রকৃতি ও প্রতিকূল আবহাওয়া পেরিয়ে গত ৭ মার্চ তিনি আয়ারল্যান্ডের মায়ো কাউন্টির ক্ল্যারিমরিসে পৌঁছান। জন্মভূমিতে ফিরেই শেষ হয় তার এই ব্যতিক্রমী যাত্রা।
তবে পথটি মোটেও সহজ ছিল না। দীর্ঘ সময় খালি পায়ে হাঁটতে গিয়ে তার পায়ের তলার চামড়া ফেটে রক্তপাত হয়েছে। কখনো কাঁটা ও কাচের টুকরো পায়ে বিঁধেছে। এমনকি কাঁটাঝোপ থেকে হওয়া গুরুতর সংক্রমণের কারণে তাকে টানা এক সপ্তাহ হাঁটা বন্ধ রাখতেও হয়েছে।
খালি পায়ে দীর্ঘপথ হাঁটার রেকর্ডে কেভেনির নতুন করে উঠে আসা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০১৬ সালে আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ২ হাজার ৮০ কিলোমিটার খালি পায়ে হেঁটে প্রথমবার এই রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি।
পরে ২০২৪ সালে পোল্যান্ডের পাওয়েল দুরাকিয়েভিচ ৩ হাজার ৪০৯ কিলোমিটার খালি পায়ে হেঁটে কেভেনির রেকর্ডটি ভেঙে দেন। এবার সেই রেকর্ডের প্রায় দ্বিগুণ দূরত্ব পাড়ি দিয়ে আবারও শীর্ষস্থান নিজের করে নিয়েছেন কেভেনি।
এর আগে আরও একটি দুঃসাহসিক কীর্তির মালিক হয়েছেন এই আইরিশ কর্মকর্তা। ২০২৩ সালে মাত্র ৫ দিন ৫ ঘণ্টা ২৩ মিনিটে ইউনিসাইকেলে পুরো আয়ারল্যান্ড ঘুরে রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি।
নিজের নতুন অভিযানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে কেভেনি জানান, প্রথমবার রেকর্ড গড়ার পরই আরও বড় কিছু করার ইচ্ছা তৈরি হয়েছিল তার মধ্যে। একটি দেশের পরিবর্তে এবার পুরো মহাদেশের একটি দীর্ঘ পথ খালি পায়ে অতিক্রম করার স্বপ্ন থেকেই ইস্তাম্বুল থেকে আয়ারল্যান্ডে ফেরার পরিকল্পনা করেন তিনি।
কেভেনির এই যাত্রা শুধু একটি রেকর্ড পুনরুদ্ধারের গল্প নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি অধ্যবসায়, শারীরিক সহনশীলতা ও মানসিক দৃঢ়তারও উদাহরণ। নানা আঘাত ও প্রতিকূলতা সামলে ৬ হাজার ৮০৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নিজের রেকর্ড ফিরিয়ে এনেছেন তিনি।



