সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ ইমন (২২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ২২ বছর বয়সী আরেক বাংলাদেশি যুবককে আট দিনের রিমান্ডে নিয়েছেন দেশটির লারনাকা জেলা আদালত।
রিমান্ডে ইমনকে হত্যার কথা স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম। জানা গেছে, ঘাতকের নাম শাহিন বাবু। সে তুর্কি সাইপ্রাস থেকে অবৈধভাবে গ্রিক সাইপ্রাসে প্রবেশ করে বসবাস করতো।
পুলিশ জানায়, জবানবন্দিতে শাহিন বাবু জানিয়েছেন, গত ৭ জুন একটি বাসে তার সঙ্গে ইমনের পরিচয় হয়। সেখানে ইমন তার কাছে কাজ খুঁজে দেওয়ার অনুরোধ করেন এবং তারা মোবাইল নম্বর বিনিময় করেন।
অভিযুক্ত বাবু দাবি করেন, বাসে কথা বলার একপর্যায়ে সে ইমনের কাছে মোবাইলের ওয়াই-ফাই হটস্পট শেয়ার করতে বললে ইমন তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাকে অপমান করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘাতক ৯ জুন একটি সুপারমার্কেট থেকে ছুরি কিনে ইমনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ১১ জুন সে ইমনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং প্রতিদিন ৫০ ইউরো মজুরিতে কাজের প্রলোভন দেয়।
ওইদিন সন্ধ্যায় ইমন কোফিনু এলাকায় তার সঙ্গে দেখা করতে যান। পরে তারা কোফিনু কসাইখানার দিকে হাঁটতে থাকেন। সেখানে অভিযুক্ত যুবক ইমনকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে। এরপর সে ইমনকে টেনে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে তখনও জীবিত ছিল। পরে ঘাতক কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে।
হত্যার পর ঘাতক নিহত ইমনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার বাবার কাছে ৩৫ হাজার ইউরো মুক্তিপণের বার্তা পাঠায়।



