বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং অমীমাংসিত সংকট নিরসনে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সংলাপ জোরদারের ওপর আবারও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদায়ী হাইকমিশনার মো. রিয়াজ হামিদুল্লাহর বৈঠক এবং ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে এ বিষয়টি উঠে এসেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের বিদায়ী হাইকমিশনার মো. রিয়াজ হামিদুল্লাহ। বৈঠক শেষে জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ফটোপোস্টে জানান, বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে বিদায়ী সাক্ষাতে অভ্যর্থনা জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে রিয়াজ হামিদুল্লাহর অবদানের প্রশংসা করে তার ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্যও কামনা করেন তিনি।
ভারতে ১৮ মাসের দায়িত্ব পালন শেষে রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, প্রথাগত কূটনীতির গণ্ডির বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের অনুভূতি ও আকাঙ্ক্ষাকে স্পর্শ করার চেষ্টা করেছেন তিনি। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মর্যাদা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে নীরবে এগিয়ে নেওয়াই ছিল তার মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
এদিকে, শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় চলমান ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর একটি বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে উদ্ভূত প্রতিটি সমস্যারই সমাধানের সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো সমস্যা লুকিয়ে রাখা কিংবা তা নিয়ে আলোচনা না করার যৌক্তিকতা নেই। গণতান্ত্রিক কাঠামোয় সব বিষয়ে আলোচনার সুযোগ থাকা জরুরি।
ত্রিবেদী আরও বলেন, পানি বণ্টন, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও যোগাযোগব্যবস্থাসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় উপযুক্ত প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা-প্রক্রিয়ার গতি কখনো ধীর মনে হতে পারে, তবে তা কখনোই থেমে যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, সঠিক পদ্ধতিতে সংলাপ অব্যাহত রাখলে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব।



