ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্রী পদ্মনাভ ঠাকুরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছিলেন। সবার সম্মিলিত ঐক্য ও ত্যাগের ফলেই স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। তাই দেশের এই ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা শক্তভাবে প্রতিহত করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের হিন্দু-মুসলমানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পারস্পরিক বন্ধন রয়েছে। এই সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মতুয়া সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও কল্যাণের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, পিছিয়ে থাকা মতুয়া জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি ও সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত মাসের মধ্যেই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা এবং এ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর অপচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন কাজ। তবে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করে নিরলসভাবে এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে একটি উদার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, কোনো মহল যেন তা নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে মতুয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম তীর্থস্থান শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয়। জবাবে রাষ্ট্রপতি সেখানে যাওয়ার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সভাপতি ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), কমিটির উপদেষ্টা আহসান হাবিব অপু ও সমেন কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ বিশ্বাস এবং শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি নিত্যানন্দ মণ্ডলসহ মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতারা। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।



