আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা কোনো একক অভিযান বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল বিষয় নয়; এর সঙ্গে পুলিশি সক্ষমতা, বিচারব্যবস্থা, রাজনৈতিক শৃঙ্খলা, মাদক ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় প্রশাসন, সাইবার অপরাধ এবং নাগরিক আস্থার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শুরুতেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নকে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার পুলিশ সংস্কার, বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা ইউনিট, সাইবার অপরাধ দমন এবং পুলিশ অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখতে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রথম শর্ত হলো পুলিশকে পেশাদার, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকুক বা বিরোধী দলে থাকুক—পুলিশের দায়িত্ব হবে আইন প্রয়োগ করা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন করা নয়। এ জন্য থানার ওসি থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পদায়নে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা ও সততার বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে। রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে পদায়ন বা বদলির সংস্কৃতি বন্ধ করা প্রয়োজন। সরকার ইতোমধ্যে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কারের কথা বলেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী সংস্কারের কথা জানিয়েছেন।
-সাধারণ মানুষ যাতে মামলা, জিডি কিংবা অভিযোগ করতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য প্রতিটি থানায় নির্দিষ্ট নাগরিক সেবা ব্যবস্থা চালু করা দরকার। অনলাইনে অভিযোগের সুযোগ, অভিযোগের অগ্রগতি জানার ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণ করা যেতে পারে। প্রতিটি থানার কার্যক্রমের কিছু মৌলিক সূচক—মামলা গ্রহণ, তদন্তের অগ্রগতি, চার্জশিটের হার, গ্রেপ্তার এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি—ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডে সংরক্ষণ করা হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সহজেই দুর্বলতা শনাক্ত করতে পারবে। এমন যেন না হয় চুরির অভিযোগকে হারিয়েছে হিসাবে অভিযোগ দাখিল নেওয়া। অনেক সময় পুলিশ তাদের ব্যার্থতা ঢাকতে অভিযোগের ধারা পাল্টে দেয়। যেমন মোবাইল চুরির অভিযোগ নেয় হারাইয়াছে বলে।
-আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে চাঁদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল, পরিবহন খাতের অবৈধ আদায় এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত হলেও একই আইনে ব্যবস্থা নেওয়া। অন্যথায় অভিযান রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখা দিতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে জনগণের আস্থা কমতে পারে।
চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্তে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন ও আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। শুধু গ্রেপ্তার নয়, অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধান ও আর্থিক প্রবাহ শনাক্ত করাও জরুরি।
-মাদক অপরাধের সঙ্গে ছিনতাই, কিশোর অপরাধ, সন্ত্রাস, পারিবারিক সহিংসতা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে। তাই মাদকবিরোধী অভিযানকে কেবল খুচরা বিক্রেতা গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সরবরাহকারী, পাচারকারী, অর্থদাতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা।
এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের গুরুত্ব বাড়ছে। সরকার মাদক-সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল তদন্ত জোরদারে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। একইভাবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান, সীমান্ত নজরদারি এবং অস্ত্রের উৎস শনাক্ত করার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
-কিশোর অপরাধকে শুধু পুলিশের সমস্যা হিসেবে দেখলে দীর্ঘমেয়াদে সমাধান হবে না। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, সমাজকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে সমন্বিত কর্মসূচি দরকার। অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের জন্য কাউন্সেলিং, পুনর্বাসন, কারিগরি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক মদদদাতা, অস্ত্র ও মাদক সরবরাহকারী এবং অর্থদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
-প্রতারণা, অনলাইন জুয়া, পরিচয় চুরি, ব্ল্যাকমেইল, আর্থিক প্রতারণা, ভুয়া তথ্য এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধ দ্রুত বাড়ছে। ফলে প্রচলিত পুলিশিং দিয়ে এসব অপরাধ মোকাবিলা করা কঠিন। প্রতিটি মহানগর ও বিভাগে আধুনিক সাইবার ফরেনসিক সক্ষমতা গড়ে তোলা, দক্ষ তদন্তকারী নিয়োগ এবং ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলমান নিরাপত্তা আধুনিকায়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যেও সাইবার অপরাধ তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি রয়েছে।
-গুরুতর অপরাধ, সন্ত্রাস, জিম্মি পরিস্থিতি কিংবা সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষায়িত বাহিনী প্রয়োজন। সরকার র্যাবের পরিবর্তে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন—এসআরবি—গঠনের জন্য বিল সংসদে তুলেছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় জবাবদিহি ও অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। তবে বিশেষায়িত বাহিনী যত শক্তিশালী হবে, তাদের ওপর তত বেশি প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি প্রয়োজন। গ্রেপ্তার, জিজ্ঞাসাবাদ, অভিযান ও বলপ্রয়োগের প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।
-আইনের শাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো জনতার হাতে বিচার তুলে নেওয়া। কোনো ব্যক্তি অপরাধী সন্দেহ হলেও তাকে আদালতের বাইরে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। গণপিটুনি ঠেকাতে পুলিশকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনিতে উসকানি দেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে মব কালচার মোকাবিলায় প্রয়োজনে আইন সংশোধনের কথা জানিয়েছে।
-পুলিশ অপরাধী গ্রেপ্তার করলেও যদি বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকে, তাহলে অপরাধ দমনে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। তদন্তের মান বাড়ানোর পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে হত্যা, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, মাদক, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের মামলায় সময়সীমাভিত্তিক তদন্ত ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা, প্রসিকিউশন ও আদালতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। ফরেনসিক রিপোর্ট দ্রুত পাওয়ার জন্য আধুনিক ল্যাব এবং দক্ষ জনবলও প্রয়োজন।
-আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শুধু বিরোধী দল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এখানে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ। সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা দলীয় পদধারী—কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ না করার নীতি প্রয়োজন।
-মাদক, অস্ত্র, মানবপাচার ও চোরাচালান কোনো একটি জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাই সীমান্তরক্ষী বাহিনী, পুলিশ, কোস্টগার্ড, কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নিরাপত্তা আধুনিকায়ন কর্মসূচিতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, কোস্টগার্ড, মাদক নিয়ন্ত্রণ, পুলিশ অবকাঠামো ও জরুরি সেবার সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে।
-রাজধানীসহ বড় শহরে যানজট, সড়কে অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত দখল ও ট্রাফিক আইন অমান্য জনজীবনে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে। তাই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আলাদা বিষয় না দেখে নগর আইনশৃঙ্খলার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা দরকার। সিসিটিভি, স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ, ডিজিটাল জরিমানা এবং ট্রাফিক সিগন্যালের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা চালু করা যেতে পারে। একজন ক্লান্ত, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় থাকা এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না পাওয়া পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব আশা করা কঠিন। পুলিশের আবাসন, চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম, কর্মঘণ্টা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে পুলিশ সদস্যদের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার জন্য ওভারটাইম এবং আবাসন ও হাসপাতাল উন্নয়নের মতো বিষয় বিবেচনা করছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।
-অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগে থেকে ঝুঁকি শনাক্ত করা কার্যকর। এ জন্য থানা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে অপরাধের তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কোন এলাকায় কখন ছিনতাই বাড়ছে, কোন রুটে মাদক আসছে, কোথায় চাঁদাবাজি হচ্ছে, কোন গোষ্ঠী সংঘবদ্ধ হচ্ছে—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ‘হটস্পট পুলিশিং’ চালু করা যেতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে বেআইনি আটক, নির্যাতন, হেফাজতে মৃত্যু কিংবা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। কারণ পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার অন্যতম মূল ভিত্তি। অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোরতা এবং নিরপরাধ নাগরিকের অধিকার—দুটি বিষয়কে একই সঙ্গে রক্ষা করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা শুধু পুলিশের দায়িত্ব নয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, ব্যবসায়ী, নারী প্রতিনিধি, যুবসমাজ এবং নাগরিক সংগঠনকে যুক্ত করে কমিউনিটি পুলিশিং শক্তিশালী করা যেতে পারে। প্রতিটি থানায় মাসিক নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে এলাকার অপরাধের ধরন, মাদক, কিশোর গ্যাং, নারী ও শিশু নিরাপত্তা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ চিহ্নিত করা সম্ভব। সরকারের একটি নির্দিষ্ট ‘ন্যাশনাল ল’ অ্যান্ড অর্ডার ড্যাশবোর্ড’ রাখা যেতে পারে। সেখানে হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ, মাদক, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, কিশোর অপরাধ, সাইবার অপরাধ ও সড়ক অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা যেতে পারে। তাহলে সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতা রাজনৈতিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে তথ্যের ভিত্তিতে জনগণ মূল্যায়ন করতে পারবে।
সরকারের জন্য আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কঠোরতা ও জবাবদিহির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা। শুধু অভিযান চালিয়ে অপরাধ কমানো যায় না; অপরাধের অর্থনৈতিক উৎস বন্ধ করতে হবে, পুলিশকে পেশাদার করতে হবে, বিচার দ্রুত করতে হবে, রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে হবে এবং নাগরিকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। সরকারের প্রথম ছয় মাসের অগ্রাধিকারের মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক স্বাভাবিকতা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে স্থায়ী ফল পেতে হলে স্বল্পমেয়াদি অভিযানকে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিষ্ঠান সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আইনের চোখে পরিচয়ভেদে ভিন্ন আচরণ না করা। ক্ষমতাসীন দলের কর্মী, বিরোধী দলের নেতা, ব্যবসায়ী, সাধারণ নাগরিক কিংবা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি—অপরাধের অভিযোগে সবার জন্য একই তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত হলে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়বে। একই সঙ্গে পুলিশ ও বিশেষায়িত বাহিনীর ক্ষমতার সঙ্গে কার্যকর জবাবদিহিও থাকতে হবে।
অর্থাৎ আগামী দিনের কৌশল হওয়া উচিত—‘অভিযাননির্ভর আইনশৃঙ্খলা’ থেকে ‘প্রতিরোধনির্ভর, তথ্যভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও নাগরিককেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায়’ রূপান্তর। এ পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি শক্ত করতে পারে।
ম. হামিদুল হক মানিক, কার্যনির্বাহী সদস্য: বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন।



