জম্মু-কাশ্মীরের দুর্গম জঙ্গলে আত্মগোপনে থাকা লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) কমান্ডার মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসা গুলির ক্ষত সারাতে হাসপাতাল নয়, ব্যবহার করতেন খাঁটি মধু। নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতার কারণে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ না থাকায় ক্ষতস্থানে মধু লাগিয়েই প্রাকৃতিক উপায়ে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করতেন তিনি।
মুসা ছিলেন ২০২৫ সালের পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হন কাশ্মীরে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রধান অপারেশনাল কমান্ডার হিসেবে পরিচিত এই জঙ্গি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে আত্মগোপনে থাকায় মুসার পক্ষে কোনো হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব ছিল না। ফলে গুলির ক্ষত সারাতে তাকে নির্ভর করতে হয় মধুর মতো সহজলভ্য প্রাকৃতিক উপায়ের ওপর।
মোবাইল ফোনেই মিলল মধু দিয়ে ক্ষত সারানোর ছবি
মুসার এই চিকিৎসাপদ্ধতির তথ্য সামনে আসে তার সহযোগী ইয়াসিরের মোবাইল ফোন থেকে। গত সেপ্টেম্বরে ইউসমার্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুলিতে ইয়াসির নিহত হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন জব্দ করে নিরাপত্তা বাহিনী।
ফোনটি তল্লাশি করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের নজরে আসে বেশ কয়েকটি ছবি। সেখানে মুসার পায়ে গুলির ক্ষত এবং সেই ক্ষতস্থানে মধু লাগানোর দৃশ্য দেখা যায়।
কর্মকর্তাদের দাবি, এসব ছবি পাকিস্তানে অবস্থানরত লস্কর-ই-তৈয়বার ঊর্ধ্বতন হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। ছবিগুলো দেখার পর পাকিস্তান থেকে মুসার জন্য খাঁটি মধুর ব্যবস্থা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৪৫ দিনের বেশি জঙ্গলে অভিযান
অপারেশন শেরুয়ালি চলাকালে রাজৌরির দোরিমাল-গম্ভীর মুঘলা এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র গোলাগুলিতে পায়ে গুলিবিদ্ধ হন মুসা। এরপর সহযোগী ইয়াসিরকে নিয়ে পুঞ্চ-রাজৌরির দুর্গম জঙ্গলে আত্মগোপন করেন তিনি।
তাদের সন্ধানে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ৪৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে যৌথ অভিযান চালায়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ঘন বন এবং প্রতিকূল পরিবেশের কারণে অভিযানটি ছিল অত্যন্ত কঠিন।
শেষ পর্যন্ত বুদগামের ইউসমার্গ এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হন মুসা।
সাবেক পাকিস্তানি কমান্ডো হওয়ার দাবি
ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসা একসময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিশেষ কমান্ডো ইউনিট স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের (এসএসজি) সদস্য ছিলেন। সামরিক প্রশিক্ষণের কারণে দুর্গম পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে দীর্ঘ সময় টিকে থাকা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পেহেলগাম হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে মুসার নাম উঠে আসার পর থেকেই ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নজরে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে আত্মগোপনে থাকার পর শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে তার মৃত্যু হয়।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া



