tanaka

নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণ শুরু কাল, ২০ অক্টোবর পর্যন্ত

নতুন পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের (পে ফিক্সেশন) কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার। ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রম। এরপর প্রায় তিন মাসের বকেয়া বেতন একসঙ্গে পরিশোধ করা হবে।
প্রচ্ছদশিক্ষাঙ্গনরুমমেটকে ছুরিকাঘাত: ডাকসু ভিপি প্রার্থী জ্বালাময়ী জালাল গ্রেপ্তার

রুমমেটকে ছুরিকাঘাত: ডাকসু ভিপি প্রার্থী জ্বালাময়ী জালাল গ্রেপ্তার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী জালাল আহমদ ওরফে ‘জ্বালাময়ী জালাল’ তার রুমমেটকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে এ ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর জালাল নিজ কক্ষে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে রাত ১টার দিকে হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তার কক্ষের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তাকে কক্ষ থেকে বের করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম ঘটনার পরপরই জালালকে হল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর ওপর এমন নৃশংস হামলার অভিযোগে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তার ছাত্রত্ব বাতিলের জন্য সুপারিশ করা হবে।” তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় রমনা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ঘটনার সময় হলের ৪৬২ নম্বর কক্ষে জালাল আহমদ তার রুমমেট, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী রবিউল হককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় রবিউলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিউল জানান, তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ জালাল ঘরে ঢুকে লাইট জ্বালিয়ে শব্দ করতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করলে জালাল উত্তেজিত হয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করেন। “আমি আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই রক্তাক্ত হই,” বলেন রবিউল।

অন্যদিকে জালাল আহমদ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, হামলার শিকার আসলে তিনিই। তার দাবি, তিনি রুমে বসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলে অবৈধ ও বহিরাগতদের উচ্ছেদে উকিল নোটিশ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় রুমমেট রবিউল ইসলাম তাকে মারধর করেন।

পোস্টে জালাল আরও দাবি করেন, রবিউল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছিলেন। তিনি তার শরীরের আঘাতপ্রাপ্ত স্থানের একাধিক ছবিও প্রকাশ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ডাকসু নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন সহিংস ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, “ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”