আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির সম্ভাব্য কর্মসূচি, মিছিল-সমাবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর পরিকল্পনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগেই নস্যাৎ করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার সকালে পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল এবং সম্ভাব্য কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে মিছিল, সমাবেশ ও জমায়েতের মাধ্যমে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর একটি পরিকল্পনা ছিল বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। তিনি দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে এখন পর্যন্ত ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, “মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েতের মাধ্যমে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল। আমরা এখন পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে সক্ষম হয়েছি।”
ডিএমপি কমিশনার জানান, আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য কর্মসূচি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আগাম গোয়েন্দা তথ্য ছিল। ওই তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিশেষ করে ঢাকার প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, চেকপোস্ট এবং জনসমাগমের সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়।
তিনি আরও জানান, গত তিন দিন ধরে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল প্যাট্রোল, সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যদের টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাজধানীতে বাইরে থেকে কর্মী-সমর্থকদের প্রবেশ ঠেকাতে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, ঢাকায় প্রবেশকারী বিভিন্ন যানবাহন ও সন্দেহজনক ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে নজরদারি করা হয়েছে।
এছাড়া সম্ভাব্য অবস্থানস্থল হিসেবে বিভিন্ন মেস, আবাসিক হোটেল ও অন্যান্য স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন ডিএমপি কমিশনার।
মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য থেকে ধারণা করা যাচ্ছে, তারা মিছিল-সমাবেশের মাধ্যমে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা বা জনজীবনে অস্থিরতা তৈরি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নাশকতার কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, একটি মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এই ঘটনা থেকে ধারণা করা যায়, তাদের আরও নাশকতামূলক পরিকল্পনা থাকতে পারে।” তবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয়গুলো আরও পরিষ্কার হবে বলেও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীতে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সংঘাত বা সহিংসতা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বাধা নেই, তবে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সম্ভাব্য উত্তেজনা বা বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।



