tanaka

রাতের কৃত্রিম আলো কি বাড়িয়ে দিচ্ছে এডিস মশার কামড়ের সময়?

সূর্য ডোবার পর শহর যত আলোকিত হচ্ছে, ততই বদলাচ্ছে রাতের পরিবেশ। আর এর সঙ্গে এডিস মশার আচরণেও কোনো পরিবর্তন ঘটছে কি না, তা নিয়ে...
প্রচ্ছদসারাদেশদুর্গাপুরের ভূমি সেবায় নতুন দিগন্ত: হয়রানি মুক্ত ভূমি সেবা পা”েছন সেবাগ্রহীতা

দুর্গাপুরের ভূমি সেবায় নতুন দিগন্ত: হয়রানি মুক্ত ভূমি সেবা পা”েছন সেবাগ্রহীতা

স্টাফ রিপোর্টার
এক সময় ভূমি অফিস মানেই ছিল ভোগান্তি আর দালালের দৌরাত্ম্য। সেই চিত্র এখন বদলে দিয়েছেন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু। দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র কয়েক মাসেই তিনি উপজেলার ভূমি সেবাকে করেছেন ঘুষ মুক্ত, দ্র“ত ও জনবান্ধব।
তিনি দুর্গাপুর উপজেলায় ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখে যোগদান করেন তার পর থেকে তার কঠোর নজরদারি ও স্ব”ছ উদ্যোগের কারণে দুর্গাপুরের মানুষ এখন হয়রানি ছাড়াই ভূমি সেবা পা”েছন। যোগদানের পরই তিনি উপজেলা ভূমি অফিসের পাশাপাশি লক্ষণখলসী, সিংগাহাট ও উজানখলসী এই ৩টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে অগ্রাধিকার দেন।
তার নির্দেশনায় প্রতিটি অফিসে সেবার ফি ও ধাপের তালিকা টাঙানো হয়েছে। ¯’াপন করা হয়েছে অভিযোগ বাক্স। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন—তিনি প্রায় প্রতি মাসেই প্রতিটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলেন। কারো কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হ”েছ কি না তা নিজে যাচাই করেন।
এই কঠোর মনিটরিংয়ের ফলেই উপজেলার সব ভূমি অফিস এখন দালালমুক্ত ও ঘুষ মুক্ত বলে জানিয়েছেন ¯’ানীয়রা।
সেবাগ্রহীতারা বলছেন, লায়লা নূর তানজুর কাজের ধরণই আলাদা। তিনি শুধু ফাইলে সই করেন না, মাঠে নেমে সমস্যা দেখেন।
সিংগাহাট ইউনিয়নের এক ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সেবাগ্রহীতা আজিজুল ইসলাম বলেন, “আগে নামজারির জন্য ৪-৫ বার ঘুরতে হতো। এখন একবার গেলেই কাজ হয়। ম্যাডাম নিজে এসে আমাদের জিজ্ঞেস করেন কোনো সমস্যা আছে কি না। বাড়তি টাকার কথা তো এখন কেউ মুখেও আনে না।” লক্ষণখলসী ইউনিয়নের মোঃ রহিদ ইসলাম, আব্দুল হালিম শফিকুল ইসলাম, জহুর“ল ইসলাম বলেন, “উনি নারী হয়েও যে সাহস ও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন তা বিরল। অফিসের সবাই এখন সময় মতো আসেন। পরিবেশ পুরো বদলে গেছে।”
¯’ানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, লায়লা নূর তানজু অত্যন্ত দায়িত্বশীল, সাহসী ও স্ব”ছ একজন কর্মকর্তা। কোনো অনিয়মকে তিনি প্রশ্রয় দেন না। তার কঠোর অব¯’ানের কারণেই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও জবাবদিহিতা বেড়েছে।
দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) (ভারপ্রাপ্ত) ইউএনও লায়লা নূর তানজু বলেন, “ভূমি সেবা মানুষের সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গা। আমি চাই প্রতিটি নাগরিক যেন মাথা উঁচু করে, হয়রানি ছাড়া সেবা পান। অনিয়মের বির“দ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। এই ধারা অব্যাহত রাখতে নিয়মিত মনিটরিং চলবে।
এ বিষয়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ মহিনুল হাসান বলেন, মান্যবর জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ভূমি সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি মুক্ত ভূমি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে আমি জেলার প্রতিটি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস নিয়মিত পরিদর্শন করছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হ”েছ জনগণকে দ্র“ত, স্ব”ছ ও দালালমুক্ত সেবা দেওয়া। ভূমি সেবার মান বাড়াতে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম রোধে আমাদের এই মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ভূমি ব্যব¯’াপনায় স্ব”ছতা ও জবাবদিহিতার কারণে দুর্গাপুরকে এখন জেলার অন্যান্য উপজেলার জন্য রোল মডেল হিসেবে দেখছেন ¯’ানীয় সচেতন মহল।
তারা মনে করেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সদি”ছা ও কঠোর তদারকিই পারে একটি প্রতিষ্ঠানের চেহারা পাল্টে দিতে। লায়লা নূর তানজুর নেতৃত্বে দুর্গাপুর সেটাই প্রমাণ করেছে।