tanaka

মার্কিন বিমান বাহিনীর এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য মিশিগানের ট্রাভার্সি শহরে মার্কিন বিমান বাহিনীর এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বিভাগের একটি এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় বিমানটি...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকসুদের হার বাড়াল ফেড, চাপে মার্কিন ঋণগ্রহীতারা

সুদের হার বাড়াল ফেড, চাপে মার্কিন ঋণগ্রহীতারা

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আবারও সুদের হার বাড়িয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি (এফওএমসি) সর্বসম্মতভাবে নীতিগত সুদের হার ০.২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করেছে। ২০২৩ সালের পর এটিই ফেডের প্রথম সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত।

ফেড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনো স্থিতিশীল গতিতে বাড়ছে। ভোক্তা ব্যয় ও উৎপাদনশীলতা শক্তিশালী থাকলেও মূল্যস্ফীতি এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। মূল্যস্ফীতিকে লক্ষ্যমাত্রার দিকে ফিরিয়ে আনতেই এবারের সুদের হার বাড়ানো হয়েছে।

ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ বলেছেন, মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রায় থাকা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাব তাদের ওপর তুলনামূলক বেশি পড়ে।

সুদের হার বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে ঋণগ্রহীতাদের ওপর। বাড়ি, গাড়ি কিংবা বড় ধরনের গৃহস্থালি পণ্য কেনার জন্য ব্যাংকঋণ নেওয়া গ্রাহকদের সুদের ব্যয় বাড়তে পারে। একইভাবে পরিবর্তনশীল সুদের ক্রেডিট কার্ড ঋণেও বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থনীতিতে ঋণের খরচ বাড়লে সাধারণত ভোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় কিছুটা কমে আসে, যা চাহিদা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

গাড়ির বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। গাড়ি কেনার জন্য নেওয়া ঋণের সুদের হার বাড়লে মাসিক কিস্তি বেড়ে যায়। ফলে নতুন গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারেন অনেক ভোক্তা। একইভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঋণ গ্রহণের খরচ বাড়ায় বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তেও প্রভাব পড়তে পারে।

আবাসন খাতেও উচ্চ সুদের চাপ রয়েছে। মর্টগেজের সুদের হার সরাসরি ফেডের নীতিগত হারের সঙ্গে নির্ধারিত না হলেও দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলনসহ বিভিন্ন বাজার পরিস্থিতি এর ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে ফেডের কড়াকড়ি নীতি দীর্ঘমেয়াদি ঋণের খরচেও চাপ তৈরি করতে পারে।

তবে সুদের হার বাড়ানোর ফলে শুধু ঋণগ্রহীতারাই প্রভাবিত হন না। ব্যাংকে অর্থ জমা রাখা সঞ্চয়কারীরা তুলনামূলক বেশি সুদ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। বিশেষ করে উচ্চসুদের সেভিংস অ্যাকাউন্ট ও সার্টিফিকেট অব ডিপোজিটে (সিডি) সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

ফেডের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনীতিতে চাহিদা নিয়ন্ত্রণের বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ভবিষ্যৎ সুদের সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতি, শ্রমবাজার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। ফেডের সেপ্টেম্বরের প্রক্ষেপণে ২০২৬ সালের শেষে ফেডারেল ফান্ডস রেটের মধ্যম অনুমান ৩.৯ শতাংশ দেখানো হয়েছে।

সূত্র: এপি, ফেডারেল রিজার্ভ