ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ ও যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে তিনটি সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, বৈঠকে যুদ্ধ-পরবর্তী কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা গুরুত্ব পাবে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্প ও তাঁর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ওই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয় সদস্য—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতারা অথবা পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নিতে পারেন। বৈঠকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রাথমিক আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আরব ও মুসলিম দেশের নেতাদেরও এতে যুক্ত করা হতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি আশা করছেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান একটি চুক্তিতে আগ্রহী বলেও দাবি করেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পক্ষ থেকেই সরাসরি এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ হামলার মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে তেল ও গ্যাস রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় এসব দেশ অর্থনৈতিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা। তবে এখন পর্যন্ত এ বৈঠকের কোনো সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি।
গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ট্রাম্প আটটি আরব ও মুসলিম দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সে সময় তাঁদের কাছে গাজা নিয়ে একটি খসড়া শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। এর এক সপ্তাহ পর পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে তুলে ধরেন ট্রাম্প এবং পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।
তবে এবারের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে হোয়াইট হাউস এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।



