বিশ্ববাজারে টানা কয়েক মাস ধরে নিম্নমুখী রয়েছে স্বর্ণের দাম। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশার পরিবর্তন—সব মিলিয়ে মূল্যবান এই ধাতুর বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে আরও দরপতনের আশঙ্কার কথাও বলছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জানুয়ারি প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৬০২ ডলারে উঠেছিল। এক ট্রয় আউন্সে প্রায় ৩১ দশমিক ১ গ্রাম স্বর্ণ থাকে। সেই দাম থেকে কমে বর্তমানে প্রতি আউন্সের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৩৫ ডলারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই স্বর্ণের বাজারে নানা ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মূল্যস্ফীতিতেও।
এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির সাম্প্রতিক কিছু তথ্যও স্বর্ণের দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। আগস্টে দেশটিতে ভোক্তাদের ব্যয় এবং মূল মূল্যসূচক চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ দীর্ঘ সময় সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের বাজার বিশ্লেষক ফ্রাঙ্ক ওয়ালবাউম রয়টার্সকে বলেন, ফেডারেল রিজার্ভ যদি কঠোর নীতি বজায় রাখে, তাহলে স্বর্ণের দাম আরও চাপের মুখে পড়তে পারে। বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বক্তব্যে নীতিগত নমনীয়তার ইঙ্গিত থাকলে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা কমবে এবং এতে স্বর্ণের দাম পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা তেলের বাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
সুদের হার নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের নতুন সিদ্ধান্ত আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই আসার কথা। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী বার্তার দিকে বিশেষ নজর রাখছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা।
এদিকে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে তেল খালাস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘটনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব অনিশ্চয়তার মধ্যে স্বর্ণের চাহিদায় কিছুটা দুর্বলতা দেখা দেওয়ায় দামও কমেছে।
তবে বাজারের বর্তমান অস্থিরতার মধ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ মজুদের কৌশলও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের স্বর্ণের মজুত সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে বলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।



