tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ও স্ত্রীর সম্পদ বিবরণী চেয়েছে দুদক

সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ও স্ত্রীর সম্পদ বিবরণী চেয়েছে দুদক

সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী জাকিয়া পারভীনের সম্পদের সঙ্গে গ্রহণযোগ্য আয়ের অসঙ্গতি পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তাদের দুজনের কাছ থেকে পৃথকভাবে সম্পদ বিবরণী নেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে কমিশন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজীর আহমেদ এ তথ্য জানান।

দুদক সূত্র জানায়, এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে মনিরুল ইসলামের নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯৫ টাকার সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ব্যয় যুক্ত করার পর তার মোট সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭৭ লাখ ৭১ হাজার ৬২৩ টাকা। বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় হিসাব করা হয়েছে ২ কোটি ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮০ টাকা।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, মনিরুল ইসলামের নামে থাকা সম্পদ এবং তার বিভিন্ন ব্যয়ের পরিমাণ গ্রহণযোগ্য আয়ের চেয়ে বেশি। এ কারণে তার সম্পদের উৎস নিয়ে ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন।

অন্যদিকে, জাকিয়া পারভীনের নামে ১০ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ২৭ লাখ ৮০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক। অর্থাৎ তার নামে মোট সম্পদের মূল্য ৩৮ লাখ ৮ হাজার ৫০০ টাকা।

এর সঙ্গে ৯ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় যোগ করলে জাকিয়ার মোট সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৭ লাখ ২৬ হাজার টাকা। অথচ অনুসন্ধানে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাকিয়া পারভীনের নামে থাকা সম্পদের পরিমাণের সঙ্গে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতি রয়েছে। অনুসন্ধানে এসব সম্পদ অর্জনে তার স্বামীর সহযোগিতার বিষয়টিও উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও নথির ভিত্তিতে মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ও জাকিয়া পারভীনের কাছ থেকে আলাদাভাবে সম্পদের হিসাব নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় পৃথক সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

দুদকের নথিতে মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই নথিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে তিনি পিআরএল ভোগরত অবস্থায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালন করছেন।