গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিলম্বের কারণে দেশে সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আমীর খসরু বলেন, যেসব দেশ বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে গেছে, তারা টিকে গেছে এবং উন্নতি করছে। কিন্তু যেসব দেশ দেরি করেছে, সেখানে গৃহযুদ্ধ, সামাজিক বিভক্তি ও অর্থনৈতিক ধস নেমেছে। “বাংলাদেশেও এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। অনেক আগেই নির্বাচন হয়ে দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরতে হতো। বিলম্বের কারণে দেশ প্রতিদিন আরও গভীর সংকটে পড়ছে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকার ও জনগণের মধ্যে কোনো সেতুবন্ধন নেই। এর ফলে প্রশাসন অচল হয়ে পড়েছে, আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষায় আছেন নির্বাচনের ফলাফলের জন্য। “অন্তবর্তী সরকারের সাম্প্রতিক বিনিয়োগ সম্মেলনে নতুন কোনো বিনিয়োগ আসেনি। তবে নির্বাচনের ঘোষণা আসার পর জাপানি বিনিয়োগকারীর দল বাংলাদেশে এসেছে,” জানান তিনি।
আলোচনায় তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫–১৬ বছরে গোষ্ঠিভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে ওঠায় মুক্তবাজার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। এজন্য বিএনপির অন্যতম স্লোগান হচ্ছে ‘ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি’। তার মতে, কেবল রাজনীতি নয়, অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবারেও গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
“গণতন্ত্র মানে সবার সমান অধিকার। অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজের কর্মকাণ্ডে প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু ভোট দেওয়া মানেই গণতন্ত্র নয়,” বলেন তিনি।
বিএনপির অর্থনৈতিক কর্মসূচির প্রসঙ্গে তিনি জানান, মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। এজন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫% বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। “মানুষের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। রাজনীতির জবাবদিহিতা নতুন পর্যায়ে যাবে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে,” আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপনসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।



