ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৮৬ রানে হারিয়ে সিরিজে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করে নতুন ইতিহাস গড়েছে টাইগাররা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের প্রথম দুই ওভারের মধ্যেই দুই উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। প্রথম ওভারের প্রথম বলেই ওপেনার ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন তাসকিন আহমেদ। গোল্ডেন ডাক নিয়ে মাঠ ছাড়েন অজি ওপেনার।
পরের ওভারে আক্রমণে এসে মার্নাস লাবুশেনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। প্রথমে আম্পায়ার আউট না দিলেও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের রিভিউয়ে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন আম্পায়ার। মাত্র ৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বড় ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া।
এরপর জশ ইংলিশ ও কুপার কনোলি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও নাহিদ রানার গতিময় বোলিংয়ে সেই জুটি ভেঙে যায়। ২৫ বলে ১৯ রান করে ফেরেন ইংলিশ। অ্যালেক্স ক্যারি ৬২ বলে ৪৭ রান করে লড়াই চালিয়ে গেলেও নাহিদের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে তার ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। ক্যামেরুন গ্রিন করেন ২২ রান।
একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান সংগ্রহ করেছিল তারা। পরে আর খেলা মাঠে গড়ানো সম্ভব না হলে ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে ৮৬ রানের জয়ী ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাহিদ রানা চারটি উইকেট শিকার করেন। মুস্তাফিজুর রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেন দুটি করে উইকেট নেন।
এর আগে ব্যাট হাতে বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেন তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। শুরুতেই সাইফ হাসান আউট হলেও দ্বিতীয় উইকেটে তামিম ও শান্ত গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তোলেন। দুজনেই ফিফটি তুলে নিলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
মধ্যভাগে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে প্রায় চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরে দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটির দিনে খেলেন নিজের সেরা ওয়ানডে ইনিংস। ৭০ বলে ৮৬ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।
শান্ত ৬৭ এবং তানজিদ তামিম ৫৪ রান করেন। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের ১৬ বলে ২০ রানের কার্যকরী ইনিংস দলকে ২৮৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ এনে দেয়। তবে ব্যাট হাতে হতাশ করেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, তিনি ১২ বলে মাত্র ৩ রান করেন।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান এলিস সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া ম্যাট রেনশ, লিয়াম স্কট দুটি করে এবং জেভিয়ার বার্টলেট একটি উইকেট শিকার করেন।
দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দীর্ঘ ১৫ বছর পর ওয়ানডে খেলতে নেমে স্মরণীয় এক জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। সিরিজের শুরুতেই এমন পারফরম্যান্সে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে টাইগার শিবির।



