tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদখেলাদেখা মিলেছে চেনা ব্রাজিলের, ছন্দও ফিরতে শুরু করেছে?

দেখা মিলেছে চেনা ব্রাজিলের, ছন্দও ফিরতে শুরু করেছে?

‘জোগো বোনিতো’। পর্তুগিজ ভাষায় এই শব্দগুচ্ছের ইংরেজি অর্থ ‘দ্য বিউটিফুল গেম’। অর্থাৎ ‘সুন্দর খেলা।’ এই শব্দবন্ধের পেটেন্ট শুধুমাত্র ব্রাজিলিয়ানদের। ফুটবলে সুন্দর এবং ছন্দময় খেলার কথা বলা হলেই সবার আগে আসে ব্রাজিলের নামটি। মেসি-ম্যারাডোনারা যত সুন্দর ফুটবলই উপহার দিন না কেন, ‘জোগো বোনিতো’র মালিক শুধুই ব্রাজিল

কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই চেনা ব্রাজিলকে যেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ফল আসছিল, ম্যাচ জিতছিল, কিন্তু হৃদয় জিততে পারছিল না। মাঠে ছিল না সেই শিল্প, ছিল না সেই আত্মবিশ্বাসী (সাম্বা) নৃত্য।

‘জোগো বোনিতো’ এখন কেবলই অতীত। রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনহো, কাকাদের সঙ্গে যেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সৌন্দর্য হারিয়ে গেছে। এখন ‘জোগো বোনিতো’ যেন জাদুঘরে গেলে দেখতে পাওয়া যায়। ও হ্যাঁ, ইউটিউবেও পাবেন। ব্রাজিলের পুরনো খেলা এখন ইউটিউব ঘাঁটলে পাওয়া যায়। বর্তমান দলটির খেলা সরাসরি দেখার চেয়ে ব্রাজিল ফুটবল ভক্তদের অনেকেই রোনালদো-রোনালদিনহোদের খেলা দেখে মন ভরায়।

‘জোগো বোনিতোর’ ছিটেফোঁটা এখনও টিকে আছে। নেইমার যেন সেই সৌন্দর্যের স্মৃতি খানিকটা বয়ে বেড়াচ্ছেন। আরও একজনের পায়ে দেখা যাচ্ছে ‘সুন্দর খেলার’ লিগ্যাসি। তিনি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্রাজিল দলটি যেমনই খেলুক, ভিনিসিয়ুসের খেলা মন-প্রাণভরে দেখা যায়। তার গোলগুলোও সুন্দর।মরক্কোর বিপক্ষে যে গোলটি দিয়েছিলেন, ব্রাজিল ভক্তদের চোখে লেগে আছে। এরপর হাইতির বিপক্ষে করা গোল কিংবা আজ (বৃহস্পতিবার) স্কটিশ গোলরক্ষককে ‘ডজ’ দিয়ে যে গোলটি সহজেই স্কটল্যান্ডের জালে জড়িয়ে দিলেন, তা রীতিমত চোখ ধাঁধানো।নেইমার নেই (প্রথম ২ ম্যাচে), বিশ্বকাপে ব্রাজিল যেন এমনিতেই খানিকটা নিষ্প্রভ। দলে থাকলেও খেলতে পারছিলেন না। যত ভালো কোচই হন না কেন, জোড়াতালি দেওয়া একটি দলকে কার্লো আনচেলত্তি কতটুকুই বা টেনে নিতে পারবেন? একে তো বড় দলের তকমা, তারওপর হেক্সা জয়ের প্রচণ্ড একটি চাপ, কার্লো আনচেলত্তির মাথায় ‘জোগো বোনিতো’র ভূত স্বাভাবিকভাবেই চেপে বসার কথা না।

জয়ই যখন সবকিছুর মূলমন্ত্র, তখন ‘ছন্দময়’ ফুটবলের অলিক স্বপ্ন দেখাটাও ‘অপরাধ’। আনচেলত্তি হাঁটলেন- প্রত্যাশার চাপ মেটানোর দিকে। পায়ের তলায় তো মাটি দরকার। শিষ্যদের তিনি শিখিয়ে দিলেন- যে কোনো মূল্যে জয় চাই। জেতার অভ্যেস তৈরি হলেই না কেবল ভিন্ন কিছু নিয়ে চিন্তা করা যায়।

মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে এলোমেলো ব্রাজিলকে দেখে ভক্ত-সমর্থকদের চূড়ান্তরূপে হতাশ হওয়ার জোগাড়। মনে হচ্ছিল না, এই দলটি বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট। যে ছন্দময় ফুটবলকে ভালোবেসে তারা ব্রাজিলের সমর্থক, সেই ফুটবল কোথায়? এ যে আর আট-দশটা সাধারণ দলের মতো খেলা! না আছে ছন্দ, না আছে গতি, আর না আছে জয়ের ক্ষুধা কিংবা গোল করার কোনো কারিশমা।

মানলাম, মরক্কো গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট। কিন্তু ‘ব্রাজিল’ নামটা তো নিজে থেকেই অনেক বড়। কথায় বলে না, ‘ধারে কাটে না ভারে কাটে’- ব্রাজিলের বর্তমান দলটির ধার নেই, ভার তো আছে!