tanaka
প্রচ্ছদইসলাম ও জীবনচুক্তিভিত্তিক বিয়ে: ইসলামি শরিয়তে এর বৈধতা ও বিধান

চুক্তিভিত্তিক বিয়ে: ইসলামি শরিয়তে এর বৈধতা ও বিধান

বিবাহ মানুষের জীবনের অন্যতম পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বন্ধন। ইসলামে বিয়েকে নিছক আবেগ, ব্যক্তিগত প্রয়োজন কিংবা পারস্পরিক সুবিধা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি; বরং এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার, দায়িত্ব এবং শরিয়তসম্মত চুক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে উন্নত দেশের নাগরিকত্ব, ভিসা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে বাস্তব দাম্পত্য জীবনযাপনের ইচ্ছা ছাড়াই ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ বা কাগজ-কলমের বিয়ের প্রবণতা দেখা যায়। এ ধরনের বিয়ে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কতটুকু বৈধ এবং শরিয়তের নিয়ম মেনে আকদ সম্পন্ন হলে এর কী বিধান হবে—এ বিষয়টি জানা অত্যন্ত জরুরি।

ধোঁকা ও প্রতারণা ইসলামে নিষিদ্ধ

নাগরিকত্ব, ভিসা কিংবা অন্য কোনো সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে বাস্তব বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছা ছাড়াই বিয়ের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করা মূলত মিথ্যা ও প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত। অথচ ইসলামে ধোঁকা, প্রতারণা ও অসত্যের আশ্রয় নেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সত্যবাদিতা ও আমানতদারি। আল্লাহ তাআলা মিথ্যা কথা থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন—

فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ

‘সুতরাং তোমরা মূর্তিপূজার অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকো এবং মিথ্যা কথা পরিহার করো।’
(সুরা আল-হজ: ৩০)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও প্রতারণার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে—

مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا

‘যে ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’
(সহিহ মুসলিম: ১০২)