বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর কয়েক মাস ধরে বহাল থাকা অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে যোগ্য বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ আবারও উন্মুক্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট জানিয়েছে, গত ২১ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস সংশ্লিষ্ট নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করেন। এরপর ২৮ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, অভিবাসী ভিসা স্থগিতের ওই নীতি আর কার্যকর নেই।
এর ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকরা আবারও নিয়মিত প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার জন্য এগোতে পারবেন। এ ভিসার মাধ্যমে দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায় এবং পরবর্তী সময়ে গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পথ তৈরি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক (ক্লিনিক) দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের এই সিদ্ধান্ত আসে। এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অধীনে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ‘পাবলিক বেনিফিট’ বা সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর সম্ভাব্য নির্ভরতার আশঙ্কাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল।
তবে আদালতের রায়ে বলা হয়, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের আওতায় শুধু জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে অভিবাসী ভিসা দিতে অস্বীকার করার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা নেই।
স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের ফলে এখন যোগ্য আবেদনকারীরা নিয়মিত প্রক্রিয়ায় তাঁদের অভিবাসী ভিসার আবেদন এগিয়ে নিতে পারবেন। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে যারা আবেদন জমা দিয়েছিলেন কিংবা সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করেছিলেন, তাঁদের আবেদনও নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশি অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা অনিশ্চয়তা অনেকটাই কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি



