সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেনকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁর নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৫৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৫৬ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এস এম আমজাদ হোসেনের নামে ৩০ কোটি ৯৪ লাখ ১৮ হাজার ১৬০ টাকা মূল্যের স্থাবর এবং ১ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৮৯৩ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ তাঁর মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩২ কোটি ৫৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫৩ টাকা।
এ ছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় বাবদ তাঁর ব্যয়ের পরিমাণ পাওয়া গেছে ১৩ কোটি ৫৭ লাখ ৯০ হাজার ৯৪৪ টাকা। ফলে ব্যয়সহ তাঁর মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৬ কোটি ১৫ লাখ ৭৫ হাজার ৯৯৭ টাকা।
এর বিপরীতে অনুসন্ধানে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস হিসেবে ৪৫ কোটি ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার ৭৪১ টাকার তথ্য পাওয়া গেছে। দুদকের হিসাবে, এ হিসাবে তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ৫৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৫৬ টাকা।
দুদক জানিয়েছে, আমজাদ হোসেনের অর্জিত সম্পদের বিপরীতে দাখিল করা আয়-ব্যয়, দায়-দেনা ও বিভিন্ন উৎসের প্রমাণক আরও বিশদভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাঁর নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্যের সঠিকতাও যাচাই করতে হবে।
অনুসন্ধানে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে আমজাদ হোসেনের মালিকানাধীন একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে দুদক।
এ ছাড়া দেশে-বিদেশে তাঁর আরও সম্পদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
এসব বিষয় বিবেচনায় অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় আমজাদ হোসেনের কাছে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন তাঁর নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন এ অনুসন্ধান পরিচালনা করেন।



