একদিকে তুরস্কের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা, অন্যদিকে ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা—নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে বেশ চিন্তিত ইউরোপের দেশ গ্রিস। বিশেষ করে, তুরস্কের বাড়তে থাকা ড্রোন সক্ষমতা এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এথেন্সের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। তাই নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবার ইসরায়েলের দিকে ঝুঁকছে গ্রিস।
এরই অংশ হিসেবে তেল আবিবের সঙ্গে ৩৫০ কোটি ডলারের (প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা) প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে এথেন্স। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) সই হওয়া এই চুক্তি দুই পক্ষের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি। তিন বছর ধরে আলোচনার পর চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছে।
এর আওতায় গ্রিস পাবে ইসরায়েলের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘অ্যাচিলিস শিল্ড’। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অন্যান্য আকাশ হামলা মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে চায় গ্রিস।
চুক্তি অনুযায়ী, ধাপে ধাপে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি গ্রিসে পৌঁছাবে এবং ৩৫ মাসের মধ্যে পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার কথা। এতে আকাশসীমা নজরদারির জন্য বহুমুখী রাডার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর একটি কমান্ড সেন্টার থাকবে। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন প্রযুক্তিকে একসঙ্গে পরিচালনা করা যাবে। এর বাইরে আরও ২ কোটি ৬০ লাখ ইউরোর (প্রায় ৩৭০ কোটি বাংলাদেশি টাকা) ড্রোন প্রতিরোধী ‘ড্রোন ডোম’ ব্যবস্থা কেনার চুক্তি হয়েছে।
গ্রিস ২০৩০ সালের মধ্যে নিজেদের সামরিক বাহিনী আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি ইউরো (প্রায় ৪ লাখ কোটি বাংলাদেশি টাকা) ব্যয় করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৪০টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং ফ্রান্স ও ইতালির কাছ থেকে যুদ্ধজাহাজ কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতও গ্রিসের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইরান এরই মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। গ্রিসে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি নৌঘাঁটি থাকায় ভবিষ্যতে এসব স্থাপনাও ইরানের লক্ষ্য হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুস্তাইয়ের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় গ্রিসের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর এ ধরনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজন হতে পারে।
ইউরোপের অনেক দেশের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত হলেও পুস্তাইয়ের মতে, ইসরায়েলের ‘ডেভিডস স্লিং’ তুলনামূলক সস্তা এবং কিছু ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার মজুতও চাপে রয়েছে।
তবে, ইসরায়েলের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার পেছনে তুরস্কের সামরিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষকরে, তুরস্কের বাড়তে থাকা ড্রোন সক্ষমতা গ্রিসের জন্য উদ্বেগের বড় কারণ।



