কোনো স্ত্রী সন্তান ধারণে সক্ষম না হলে স্বামী-স্ত্রীর শুক্রাণু ও ডিম্বাণু নিয়ে অন্য নারীর গর্ভে ভ্রূণ স্থাপনের বিষয়টি ইসলামি শরিয়তে কীভাবে দেখা হয়—এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের। এ ক্ষেত্রে সন্তানের নসব কার সঙ্গে সাব্যস্ত হবে এবং মাতৃত্বের সম্পর্কই বা কার সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হবে, সে বিষয়েও রয়েছে নির্দিষ্ট বিধান।
ইসলামি শরিয়তের আলোকে, স্বামী-স্ত্রীর শুক্রাণু ও ডিম্বাণু ব্যবহার করে ভ্রূণ তৈরি করে তা কোনো অপরিচিত নারীর গর্ভে প্রতিস্থাপন করা জায়েয নয়; বরং এ পদ্ধতি হারাম।
এভাবে গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মের ঘটনা ঘটলে, শরিয়তের বর্ণিত বিধান অনুযায়ী যে নারী সন্তানটিকে গর্ভে ধারণ করে জন্ম দিয়েছেন, তার সঙ্গেই সন্তানের মাতৃত্বের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে।
গর্ভধারণকারী নারী যদি বিবাহিত হন, তাহলে ‘الولد للفراش’ নীতির ভিত্তিতে সন্তানের নসব ওই নারীর স্বামীর সঙ্গে সাব্যস্ত হবে।
অন্যদিকে, গর্ভধারণকারী নারী যদি অবিবাহিত হন, তাহলে সন্তানের নসব যে নারী তাকে গর্ভে ধারণ করে জন্ম দিয়েছেন, তার সঙ্গেই সাব্যস্ত হবে।
এ ক্ষেত্রে যেসব স্বামী-স্ত্রীর শুক্রাণু ও ডিম্বাণু থেকে ভ্রূণটি তৈরি হয়েছিল, তাদের সঙ্গে সন্তানের নসব শরিয়ত অনুযায়ী সাব্যস্ত হবে না।
অর্থাৎ, জৈবিকভাবে ভ্রূণের সৃষ্টিতে স্বামী-স্ত্রীর শুক্রাণু ও ডিম্বাণু ব্যবহৃত হলেও, গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদানের বিষয়টি নসব ও মাতৃত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে।



