tanaka

পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধ ২০৪ কোটি ডলার

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। চলতি...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকচীনের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ পুনরুজ্জীবিত করতে সক্রিয় পাকিস্তান

চীনের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ পুনরুজ্জীবিত করতে সক্রিয় পাকিস্তান

চীনের উদ্যোগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থগিত হয়ে যাওয়া সমঝোতা ও কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে পাকিস্তান। দেশটির তিনটি সূত্র আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ প্রচেষ্টা চলছে।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে পাকিস্তান সফররত ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনির সঙ্গে ইসলামাবাদে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। গত ১০ দিনের মধ্যে এটি ছিল তার দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর।

পাকিস্তান সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মোমেনি সফরকালে পাকিস্তানের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন।

তবে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা তিনটি সূত্রই জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ পুনরায় শুরু করার পথে এখনো বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানও জটিল কূটনৈতিক ভারসাম্যের মুখে পড়েছে।

চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে। অথচ সৌদি আরব পাকিস্তানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং গত বছর দুই দেশ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল পাকিস্তান ইতোমধ্যে হুতিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয় অবস্থান নিলে রিয়াদের অসন্তোষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের অর্থনীতিতেও চীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বাণিজ্যপথগুলো সচল রাখতে কূটনৈতিক সমাধানে বেইজিংয়েরও বড় কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত সপ্তাহে চীন সফরের সময় দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।

পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ইরানের হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট অচলাবস্থায় চীন উদ্বিগ্ন, কারণ এতে তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরে অস্থিরতা বাড়লে চীনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা দেশটির সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাকিস্তানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে তারা সমর্থন করে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বেইজিং গঠনমূলক ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে।

চীন বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশটির প্রধান তেল ক্রেতা। পাশাপাশি বিভিন্ন দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি, চিপ সরঞ্জাম ও স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও চীনের সহায়তা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি বছরের মার্চ থেকেই বিশেষ দূতের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে আসছে বেইজিং।

এর আগে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছিল। স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও পরোক্ষ সংলাপে অগ্রগতি না হওয়ায় উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করে এবং সংঘাত আবারও শুরু হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরেও জ্বালানি সরবরাহে নতুন সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সকে পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ হওয়াই নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শুরুর প্রধান পূর্বশর্ত। পাকিস্তান ইতোমধ্যে এই বার্তাই তেহরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।