লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর আল-মাখা (মোচা) দখলে নেওয়ার দাবি করেছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন ইয়েমেনি সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সৌদি আরব ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে চাপ বাড়লেও হুথিদের সামরিক অগ্রযাত্রা থামছে না বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উলফগাং পুস্তাই আল-জাজিরাকে বলেছেন, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ইয়েমেনের হুথিদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হলেও দেশটির মাটিতে তাদের অগ্রযাত্রায় এর বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।
পুস্তাই বলেন, হুথিদের ওপর ইরানের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তবে তারা কেবল ইরানের ‘প্রক্সি’ হিসেবে কাজ করে না। নিজেদের স্বার্থ ও রাজনৈতিক-সামরিক লক্ষ্যকে সামনে রেখেই হুথিরা তাদের যুদ্ধ পরিচালনা করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকলে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানকে সতর্ক করেছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রয়োজনে কার্যকর হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
পুস্তাইয়ের মতে, পাকিস্তান ও তুরস্ক যৌথভাবে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে তা তেহরানের নেতৃত্বের ওপর কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বাস্তবে এই চাপের কার্যকারিতা খুবই সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রাকে আরও বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখছেন এই প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক। আল-মাখা বা মোচা দখলের খবর সত্য হলে এটিকে হুথিদের জন্য একটি বড় সামরিক সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে মনে করেন তিনি।
আল-জাজিরাকে পুস্তাই বলেন, হুথিরা বর্তমানে সরকারি বাহিনীর তুলনায় বেশি অগ্রসর হচ্ছে। তারা যদি তাইজ ও আল-মাখার মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম হয়, তাহলে সেটি ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর জন্য ‘খুবই বড় ধাক্কা’ হবে।
তার মতে, হুথিরা মোচা দখলে নিতে পারলে লোহিত সাগরের তীরে ইয়েমেনের প্রায় পুরো উপকূল তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে পারে। এর ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাও তাদের জন্য সহজ হয়ে উঠবে।
পুস্তাই বলেন, হরমুজ প্রণালির প্রস্থ যেখানে প্রায় ৫০ কিলোমিটার, সেখানে বাব আল-মান্দেব প্রণালি মাত্র প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত। ফলে হুথিরা চাইলে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ব্যবহার ছাড়াও শুধু কামান দিয়ে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালাতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু সৌদি আরবের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের জন্যও বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
তবে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো ইতোমধ্যে বহির্বিশ্বের সহায়তা থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের মজুত অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করেই তারা যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। ফলে ইরানের ওপর সৌদি মিত্রদের চাপ বাড়লেও হুথিদের সামরিক কার্যক্রম থামানো সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



