-
কোনো অঘটন নয়, দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ফলেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে স্বাগতিকদের চার দিনের টেস্টে ৯ উইকেটে হারানোর পেছনে বড় ভূমিকা ছিল বাংলাদেশ দলের কোচ ফিল সিমন্সের। তাঁর মাত্র ছয় শব্দের একটি মন্ত্রই যেন বদলে দিয়েছে টাইগারদের মানসিকতা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে নাজমুল হোসেন শান্তদের সিমন্স বলেছিলেন, ‘ম্যাচের প্রতিটা সেশনেই ওদের হারাতে হবে।’ সেই পরিকল্পনাই মাঠে বাস্তবায়ন করেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
চার দিনের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। ১২টি সেশনেই আধিপত্য ছিল টাইগারদের। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই স্বাগতিকদের চেয়ে এগিয়ে ছিল তারা।
শুরুটা করেছিলেন পেসার হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে তাঁর ছয় উইকেটের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
জবাবে ব্যাট হাতে বাংলাদেশের হয়ে দারুণ পারফরম্যান্স করেন তানজিদ হাসান তামিম। অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণ শক্তির বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে তুলে নেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। তাঁর সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ ও মুমিনুল হকের কার্যকর ইনিংসে প্রথম ইনিংসে বড় লিড পায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের স্পিনারদের সামনে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। সহজ সেই লক্ষ্য ৯ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় টাইগাররা।
বাংলাদেশের এই জয়ের পেছনে ডারউইনের পিচ প্রস্তুতকারক জেক পাভলিচের অবদানও রয়েছে। তিনি এমন একটি উইকেট তৈরি করেছিলেন, যেখানে সফরকারী দলও নিজেদের শক্তি কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েছে। বাংলাদেশ সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে।
চার দিনের পুরো ম্যাচে একবারও অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশ। ফলে এই জয়কে কোনোভাবেই অঘটন বলা যায় না। বরং পরিকল্পনা, ধারাবাহিকতা ও তিন বিভাগে দারুণ পারফরম্যান্সের ফল হিসেবেই এসেছে ঐতিহাসিক জয়টি।
ভারত ও পাকিস্তানের পর এশিয়ার তৃতীয় দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে টেস্ট জয় পাওয়া দলগুলোর তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছে টাইগাররা।
বাংলাদেশকে শুরু থেকেই কিছুটা হালকাভাবে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তার প্রভাবও পড়েছে ম্যাচের প্রস্তুতি ও ভেন্যু নির্বাচনে। মেলবোর্ন, সিডনি, পার্থ কিংবা ব্রিসবেনের মতো বড় শহরের পরিবর্তে ডারউইনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ম্যাচটি। মাত্র পাঁচ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই ভেন্যুতে পুরুষদের প্রথম টেস্টও এটি।
তবে ভেন্যু কিংবা প্রতিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি নয়—নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের তীব্র ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ইতিহাস গড়িয়েছে। আর সেই পথে ফিল সিমন্সের ছয় শব্দের মন্ত্র হয়ে উঠেছে দলের পারফরম্যান্সের অন্যতম চালিকাশক্তি।



