ইসলাম দত্তক বা পালিত সন্তানের লালন-পালন, ভরণপোষণ ও যত্ন নেওয়াকে উৎসাহিত করেছে। তবে পালিত সন্তানকে প্রকৃত সন্তানের সমমর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়তে রয়েছে নির্দিষ্ট বিধান। বিশেষ করে বংশপরিচয় ও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে দত্তক সন্তানকে জৈবিক সন্তানের মতো গণ্য করা হয় না।
দত্তক সন্তান কি উত্তরাধিকার পাবে?
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, দত্তক বা পালিত সন্তান দত্তকগ্রহণকারী বাবা-মায়ের স্বাভাবিক উত্তরাধিকারী নয়। ফলে বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার আইনে সে প্রকৃত সন্তানের মতো সম্পত্তির অংশ পাবে না।
তবে পালিত সন্তানকে সম্পদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাবা-মা জীবিত অবস্থায় তাকে হিবা বা দান করতে পারেন। এছাড়া মৃত্যুর আগে তার জন্য ওসিয়ত করা যায়। সাধারণভাবে ওসিয়ত মোট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি হতে পারে না; এর বেশি দিতে হলে উত্তরাধিকারীদের সম্মতি প্রয়োজন।
কুরআনের নির্দেশনা
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“তিনি তোমাদের পালকপুত্রদের তোমাদের প্রকৃত পুত্র বানাননি।”
—সুরা আল-আহযাব, আয়াত ৪
আরেক আয়াতে বলা হয়েছে—
“তোমরা তাদেরকে তাদের প্রকৃত পিতার নামেই ডাকো; এটাই আল্লাহর কাছে অধিক ন্যায়সঙ্গত।”
—সুরা আল-আহযাব, আয়াত ৫
অর্থাৎ কোনো শিশুকে লালন-পালন করলেই তার বংশপরিচয় পরিবর্তিত হয় না এবং সে শরিয়তের দৃষ্টিতে পালক বাবা-মায়ের প্রকৃত সন্তান হয়ে যায় না।
হাদিসেও রয়েছে সতর্কতা
রাসুলুল্লাহ (সা.) জেনে-শুনে নিজের প্রকৃত পিতা ছাড়া অন্য কাউকে পিতা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর সতর্ক করেছেন। (বুখারি ও মুসলিম)
পালিত সন্তানকে সম্পদ দেওয়ার বৈধ উপায়
দত্তক সন্তানকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করাই একমাত্র বিধান নয়। বরং—
- জীবিত অবস্থায় তাকে হিবা বা দান করা যায়।
- মৃত্যুর আগে তার জন্য ওসিয়ত করা যায়।
- ওসিয়তের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম হলো, উত্তরাধিকারীদের সম্মতি ছাড়া সম্পদের সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ওসিয়ত করা যায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রা.)-কে বলেছিলেন, “এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক।” (বুখারি ২৭৪২, মুসলিম ১৬২৮)
সারকথা: দত্তক বা পালিত সন্তানকে ভালোবাসা, লালন-পালন ও ভরণপোষণ করা ইসলামসম্মত ও সওয়াবের কাজ। তবে শুধু দত্তক নেওয়ার কারণে সে পালক বাবা-মায়ের শরয়ি উত্তরাধিকারী হয় না। তাকে সম্পদ দিতে চাইলে জীবদ্দশায় হিবা করা বা শরিয়তসম্মত সীমার মধ্যে ওসিয়ত করা যায়।



