আজ থেকে শুরু হচ্ছে এশিয়া মহাদেশের ক্রিকেট শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই—এশিয়া কাপ ২০২৫। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আফগানিস্তান ও হংকংয়ের ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে এই টুর্নামেন্টের ১৭তম আসরের।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতি আসরে বিশ্বকাপের ফরম্যাট অনুসরণ করে এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে এবারের আসরও হচ্ছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। আয়োজক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত এরই মধ্যে প্রস্তুত করেছে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যুগুলো। এবার অংশ নিচ্ছে আটটি দল—ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, ওমান, হংকং এবং স্বাগতিক আরব আমিরাত।
টুর্নামেন্ট ফরম্যাট
টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলো দুইটি গ্রুপে বিভক্ত। প্রত্যেক গ্রুপ থেকে সেরা দুই দল উঠবে সুপার ফোর পর্বে। সেখান থেকে শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনাল, যা অনুষ্ঠিত হবে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে—টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এক ঐতিহাসিক ভেন্যু।
দলগুলোর অবস্থা এক নজরে
ভারত
বিশ্বকাপজয়ী অভিজ্ঞতায় ভরপুর ভারতীয় দল এই ফরম্যাটে অন্যতম ফেভারিট। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে রয়েছে শুভমান গিল, রিঙ্কু সিং, স্যামসন, জিতেশের মতো আগ্রাসী ব্যাটার। অলরাউন্ডার হিসেবে আছেন হার্দিক পান্ডিয়া, শিবাম দুবে ও অক্ষর প্যাটেল। জসপ্রিত বুমরাহর নেতৃত্বে বোলিং ইউনিটও দারুণ শক্তিশালী।
পাকিস্তান
ফাখর জামান ও সাহিবজাদা ফারহানের বিধ্বংসী ওপেনিং জুটি, মোহাম্মদ হারিস ও সাইম আইয়ুবের আগ্রাসন—সব মিলিয়ে ব্যাটিং লাইনআপ ভয়ঙ্কর। শাহীন আফ্রিদি, হাসান আলি ও হারিস রউফের মতো পেসাররা প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
শ্রীলঙ্কা
চারিথ আশালঙ্কার নেতৃত্বে তরুণ ও অভিজ্ঞদের দুর্দান্ত সমন্বয়। কুশল মেন্ডিস, পাথুম নিশাঙ্কার ব্যাটিংয়ের সঙ্গে রয়েছে হাসারাঙ্গা ও কামিন্দুর মতো বিশ্বমানের অলরাউন্ডার। স্পিন আক্রমণে এবারও বড় ভরসা।
বাংলাদেশ
অভিজ্ঞ লিটন দাস, মোস্তাফিজ, তাসকিনদের সঙ্গে যোগ হয়েছে তৌহিদ হৃদয়, শান্তদের মতো তরুণদের ফর্ম। সাম্প্রতিক সিরিজ জয় দলকে দিয়েছে আত্মবিশ্বাস। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স আগের চেয়ে অনেক উন্নত। এই টুর্নামেন্টে চমক দেখানোর জোর সম্ভাবনা রয়েছে টাইগারদের।
আফগানিস্তান
রশিদ খানের নেতৃত্বে দলটি টুর্নামেন্টের অন্যতম “ডার্ক হর্স”। গুরবাজ, ইবরাহিম জাদরান, নবি, নাইব, মুজিব ও নুর আহমদদের নিয়ে আফগানিস্তান প্রতিটি ম্যাচেই ফেভারিট হতে পারে।
হংকং
অভিজ্ঞতা কম হলেও অংশি রাঠ, বাবর হায়াতের মতো ম্যাচ-জেতানো ব্যাটার এবং গজনফার, আইজাজ, আয়ুস শুকলার মতো বোলাররা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারেন।
ওমান
আন্ডারডগ হিসেবে টুর্নামেন্টে নামলেও টি-টোয়েন্টির অনিশ্চয়তাকে কাজে লাগিয়ে চমক দেখাতে পারে জিতেন্দর সিংয়ের নেতৃত্বাধীন দলটি।
আরব আমিরাত
স্বাগতিক হিসেবে দলের মধ্যে রয়েছে বাড়তি প্রেরণা। মোহাম্মদ ওয়াসিম ও আসিফ খানের আগ্রাসী ব্যাটিং, সঙ্গে রাহুল চোপড়া, আলিশান শরাফুদের স্থিতিশীলতা। বোলিংয়ে আছে হায়দার আলি ও জোনায়েদ সিদ্দিকীর মতো প্রতিভাবান পেসার।
বিশেষ নজর থাকবে যেসব দিকের ওপর:
- ভারত-পাকিস্তান লড়াই: বরাবরের মতোই বাড়তি উত্তেজনার জন্ম দেবে।
- বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচ: সাম্প্রতিক সময়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দ্বৈরথ।
- স্পিন-সহায়ক উইকেট: আবুধাবি ও দুবাইয়ের কন্ডিশনে স্পিনারদের প্রাধান্য থাকতে পারে।
পরিসংখ্যানের আয়নায় এশিয়া কাপ
- ভারত সবচেয়ে বেশি (৭ বার) এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন।
- শ্রীলঙ্কা সবচেয়ে বেশি ফাইনাল খেলেছে।
- আফগানিস্তান এখনো শিরোপা না জিতলেও ধারাবাহিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে।
- বাংলাদেশ সম্প্রতি টি-টোয়েন্টিতে ফর্মে রয়েছে—পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজ জয় তার প্রমাণ।
শেষ কথা
সব মিলিয়ে এশিয়া কাপ ২০২৫ হতে যাচ্ছে এক রোমাঞ্চকর ব্যাট-বলের যুদ্ধ। নতুন কোনো চ্যাম্পিয়নের উত্থান, না কি ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার দাপট বজায় থাকবে—তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে শেষ পর্যন্ত।



