মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির নয় বছর পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। সংকটের নবম বার্ষিকীতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাহস, ধৈর্য ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মর্যাদা ধরে রাখার প্রশংসা করেছে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ব্রিটিশ হাইকমিশন এসব কথা জানায়।
পোস্টে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে বর্তমানে রাখাইনসহ মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। একই সঙ্গে দেশটিতে মানবিক সহায়তার প্রয়োজনও ক্রমেই বাড়ছে।
ব্রিটিশ হাইকমিশন জানায়, নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামোয় বিমান হামলা এবং ত্রাণ ও বাণিজ্যে বাধা মানবিক পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে। এর ফলে বাংলাদেশ ও আশপাশের অঞ্চলে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি বাড়ছে। বিপজ্জনক সমুদ্রপথে পালানোর সময় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে ফেরানোর মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের মতে, এ জন্য বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো মোকাবিলা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা তৈরি এবং মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ জরুরি। একই সঙ্গে রাখাইনে ফিরে গিয়ে নিজেদের বাড়িঘর, জীবিকা ও সম্প্রদায় পুনর্গঠনের জন্য রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও দক্ষতা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির পথ খুঁজতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। সেই পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।
মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সহায়তা কীভাবে দেওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে ব্রিটিশ হাইকমিশন। স্থানীয় নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নেতৃত্বাধীন পক্ষগুলোর সহায়তা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আরও বেশি সম্পৃক্ততার পক্ষে তারা।
রোহিঙ্গাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেগুলোতে তাদের নিজেদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।
রোহিঙ্গা সংকট এখন দশম বছরে প্রবেশ করছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর থেকে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ব্রিটিশ হাইকমিশন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বক্তব্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে বৈশ্বিক সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।



