-
নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে জুনিয়র এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় ধরা পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিপাকে পড়েছেন প্রভাবশালী আইনজীবী নাথানিয়েল ক্যালেরটন। নামী আইন সংস্থা ওয়াচটেল লিপটনের এই পার্টনারকে শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে একাধিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে দ্য পোস্ট।
৪৫ বছর বয়সী ক্যালেরটনকে নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয় ২৯ বছর বয়সী জুনিয়র অ্যাসোসিয়েট কেলসি বোরেঞ্জওয়েগের সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর। এর প্রভাব তার পেশাগত জীবনেও পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর আরেক প্রভাবশালী আইন সংস্থা জিবসন ডানে উচ্চ বেতনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও নষ্ট হয়ে যায়।
এরপর ওয়াচটেল কর্তৃপক্ষ ক্যালেরটন ও বোরেঞ্জওয়েগের সম্পর্কের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালে কয়েক সপ্তাহ ছুটিতে থাকার পর এখন ক্যালেরটনকে প্রতিষ্ঠান থেকে চূড়ান্তভাবে আলাদা করার প্রক্রিয়া চলছে।
এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত নন
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্যালেরটনকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চললেও গত জুলাই থেকে তার আনুষ্ঠানিক চাকরির মর্যাদায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে এই মুহূর্তে তাকে সরাসরি ‘বরখাস্ত’ বলা ঠিক হবে না।
খাতাকলমে তিনি এখনো ওয়াচটেলের কর্মী এবং ছুটিতে রয়েছেন। তবে ছুটির সময়ে তিনি বেতন পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, ওয়াচটেলের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি কবে চূড়ান্ত হবে, তা স্পষ্ট নয়।
ওয়াচটেল, ক্যালেরটন, বোরেঞ্জওয়েগ কিংবা জিবসন ডানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মূল প্রশ্ন পেশাগত ক্ষমতার ভারসাম্য
ঘটনাটির সমস্যা শুধু প্রকাশ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। ক্যালেরটন ছিলেন ওয়াচটেলের লিটিগেশন বিভাগের একজন পার্টনার, আর বোরেঞ্জওয়েগ ছিলেন একই বিভাগের জুনিয়র কর্মী। ফলে তাদের মধ্যে স্পষ্ট পেশাগত পদক্রমের সম্পর্ক ছিল, যা প্রতিষ্ঠানটির নীতিমালা ও কর্মক্ষেত্রের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তবে বোরেঞ্জওয়েগের বর্তমান চাকরির অবস্থা কী, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
ওয়াচটেলের লিটিগেশন বিভাগেও চলছে পরিবর্তন
ক্যালেরটনকে ঘিরে এই ঘটনা ওয়াচটেলের শক্তিশালী লিটিগেশন বিভাগে সাম্প্রতিক একাধিক পরিবর্তনের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই বিভাগটি ওপেনএআই ও এর সিইও স্যাম অল্টম্যানের পক্ষে ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আলোচনায় এসেছিল।
ওই মামলায় নেতৃত্ব দেওয়া ৬৩ বছর বয়সী প্রভাবশালী আইনজীবী স্যাভিট গত মাসে ওয়াচটেল ছেড়ে জিবসন ডানের নিউইয়র্ক অফিসে যোগ দেন। তার সঙ্গে আরও পাঁচ পার্টনার—সারা এডি, অনিতা রেড্ডি, রান্ডাল জ্যাকসন, রায়ান ম্যাকলিওড ও ব্র্যাড উইলসন—ও প্রতিষ্ঠানটি ছাড়েন।
সেন্ট্রাল পার্কের ঘটনাটি না ঘটলে ক্যালেরটনেরও এই দলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভাইরাল ভিডিও প্রকাশের পর তার সেই সম্ভাবনা আর বাস্তবায়িত হয়নি।
সহকর্মীদের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা
স্যাভিটের ওয়াচটেল ছাড়ার পর একই বিভাগের কয়েকজন সদস্যের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন খবর প্রকাশ্যে আসে। দ্য পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াচটেলে পার্টনার হিসেবে কাজ করার সময় স্যাভিট ও সারা এডির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
তবে তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্যালেরটনের ঘটনার মতো পেশাগত পদক্রমের বিষয় ছিল না। সারা এডি স্যাভিটের অধীনস্থ ছিলেন না এবং ওয়াচটেলে সহকর্মীদের মধ্যে সম্মতিভিত্তিক সম্পর্কের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞাও ছিল না। জানা গেছে, গত মাসের শেষ দিকে জিবসন ডানে যোগ দেওয়ার সময় তাদের সম্পর্কেরও অবসান ঘটে।
এদিকে আইনি অঙ্গনের বিভিন্ন সূত্রের দাবি, স্যাভিটকে জিবসন ডান বড় অঙ্কের চুক্তিতে দলে নিয়েছে। সেখানে তিন বছরে মোট ৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার, অর্থাৎ বছরে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে স্যাভিটের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এই অঙ্কের দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।



