নারায়ণগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. ওয়াজেদ আলম সীমান্ত হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৭ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ শামীম আজাদ আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন পেশাদার ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত অনিক, আকাশ ও চান্দি বাবু।
নিহত সীমান্ত দেওভোগের শুক্কুরকারি মসজিদ গলির বাসিন্দা মো. আলম পারভেজের ছেলে। তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ছুরিকাঘাত
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় দেওভোগের মিন্নত আলী শাহ সাহেবের মাজারের সামনে সীমান্তকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা। পরে তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও ১ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
গুরুতর আহত অবস্থায় সীমান্তকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নিহতের বাবা আলম পারভেজ নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর আসামিরা আদালতে ছিনতাই ও সীমান্তকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ বিপু জানান, মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষী ছিলেন। এর মধ্যে ২৪ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে বিচারক তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২০ মাস পর আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হলো।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত সীমান্তের বাবা আলম পারভেজ। তিনি বলেন, তার সন্তানের মতো আর কোনো সন্তান যেন ছিনতাইকারীদের হাতে প্রাণ না হারায় এবং কোনো মায়ের বুক যেন সন্তানের মৃত্যুতে খালি না হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তদের উচ্চ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।



