tanaka

শান্ত-মিরাজকে ফিরিয়ে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকে হ্যাজলউড

ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে ক্যারিয়ারের ৩০০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার জশ হ্যাজলউড। বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকবিশেষ মর্যাদা বহাল থাকলে পিওকের মানুষ জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইত: ওমর...

বিশেষ মর্যাদা বহাল থাকলে পিওকের মানুষ জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইত: ওমর আবদুল্লাহ

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ দাবি করেছেন, ২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ও রাজ্যের মর্যাদা বাতিল করা না হলে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) মানুষ জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে পুনঃএকত্রীকরণের দাবিতে রাস্তায় নামত।

শনিবার (১৫ আগস্ট) শ্রীনগরে ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি পিওকের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সেখানে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে হতাহত ও গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলো তুলে ধরেন।

ওমর আবদুল্লাহ বলেন, পিওকের বর্তমান পরিস্থিতি তার কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তার দাবি, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান থেকে আসা উপজাতীয় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে কাশ্মীরের ভারতভুক্তির যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেটিকে সঠিক বলে প্রমাণ করছে।

১৯৪৭ সালের পরিস্থিতি স্মরণ করে তিনি তার দাদা ও জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। ওমর বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরে পৌঁছানোর আগেই তার দাদা স্থানীয় মানুষকে সংগঠিত করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং নিজেদের ভূমি রক্ষায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

সীমান্তের ওপারে বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে ওমর আবদুল্লাহ বলেন, তার পূর্বপুরুষদের নেওয়া সিদ্ধান্তের যথার্থতা নিয়ে তিনি বিশ্বাসী। তিনি আরও দাবি করেন, ২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ও রাজ্যের মর্যাদা বাতিল করা না হলে পিওকের মানুষের মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আরও জোরালো হতে পারত।

জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের জন্য নির্ধারিত আসনের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই আসনগুলো ভবিষ্যতে অন্য পাশের প্রতিনিধিদের জন্য পূরণ করার প্রত্যাশায় খালি রাখা হয়েছে।

তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও বিজেপি নেতা সুনীল শর্মা ওমর আবদুল্লাহর বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার অভিযোগ, জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে দেশের উন্নয়ন, সরকারের কাজ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন।

এদিকে ২০১৯ সালের আগস্টে বাতিল হওয়া জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা ও সাংবিধানিক নিশ্চয়তাগুলো পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন ওমর আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, তার সরকার এই দাবিতে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিকভাবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। ফলে স্বাধীনতা দিবসের বক্তব্যে পিওকের পরিস্থিতি, ২০১৯ সালের সাংবিধানিক পরিবর্তন এবং জম্মু-কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান—তিনটি বিষয়ই গুরুত্ব পেয়েছে।