tanaka

ভারতে নানকের কাছে মাসে যায় কোটি টাকা, নেপথ্যে কারা

পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের কাছে বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বরিশাল ও...
প্রচ্ছদসারাদেশটানা বৃষ্টিতে বাড়ছে তিস্তার পানি, ডালিয়ায় বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচে

টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে তিস্তার পানি, ডালিয়ায় বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচে

টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে নীলফামারীর তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৬টায় দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারেজের নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে (খালিশাচাপানি-বাইশপুকুর) নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ মিটার, যা বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজানে অব্যাহত বৃষ্টির কারণে যেকোনো সময় তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছিল, উজানের বৃষ্টির পানি রাতে তিস্তা দিয়ে নেমে আসতে পারে। সেই পূর্বাভাস অনুযায়ী বুধবার সকালে নদীর পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। তবে বুধবার সকাল ৬টায় তা বেড়ে বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

পাউবোর পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় পানির স্তর ছিল ৫২ দশমিক ০০ মিটার। পরে সকাল ৯টায় ৫১ দশমিক ৯৩, দুপুর ১২টায় ৫১ দশমিক ৯০ এবং বিকেল ৩টা ও ৬টায় ৫১ দশমিক ৮৯ মিটারে নেমে আসে। তবে রাত ৯টায় পানি আবার বেড়ে ৫১ দশমিক ৯৮ মিটারে পৌঁছে, যা বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচে ছিল।

তিনি বলেন, এর আগের দিন সোমবার (২০ জুলাই) সকালেও তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। সেদিন পানির স্তর ৫২ দশমিক ০০ থেকে ৫২ দশমিক ১০ মিটারের মধ্যে ওঠানামা করেছিল।

এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধির কারণে গত ১৩ জুলাই থেকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশাচাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল, পাশাপাশি জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত রয়েছে। এতে তিস্তা তীরবর্তী হাজারো মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, নদীর পানি বৃদ্ধিতে ঝাড়সিংহেশ্বর ও পূর্ব ছাতনাই গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উঁচু এলাকায় সরে গেছে।

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, গত ১৩ জুলাই থেকে তার ইউনিয়নের চরাঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৩৫০ পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। স্থানীয়রা পানির স্তর কমার অপেক্ষায় থাকলেও উজান থেকে ঢল অব্যাহত থাকায় দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ভারতের মেখলিগঞ্জ পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশ অংশের ডালিয়া ব্যারেজ পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে স্বাভাবিক অবস্থায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগে। তবে উজানে অতিরিক্ত ঢল নামলে এক ঘণ্টারও কম সময়ে সেই পানি ডালিয়ায় পৌঁছে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, স্বাভাবিক সময়ে তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় পানির প্রবাহের গতি ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার থাকে। কিন্তু উজান থেকে অতিরিক্ত ঢল নামলে পানির গতি ও প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষণিক নদীর পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে।