কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি আরও ৭ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বর্তমানে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সীমান্তবর্তী চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন। দুই ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলের জমি। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যোগাযোগও।
৪৭০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে
দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৭০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভীন বলেন, গতকালের তুলনায় আজ পদ্মার পানি আরও বেড়েছে। এতে ফসলের ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ৪৭০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
বেড়েছে দুর্ভোগ, বন্ধ পাঠদান
পানি বাড়ায় দুর্গত এলাকাগুলোতে নানা ধরনের দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। চারদিকে পানি থাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।
পানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে অনেক পরিবার সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে প্রায় ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এসব প্রতিষ্ঠানে কার্যত পাঠদান বন্ধ রয়েছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি।
সাড়ে ৩০০ পরিবারে ত্রাণ
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের একটি অংশ এবং চিলমারী ইউনিয়নের পুরো এলাকাই নিম্নাঞ্চল হওয়ায় প্রতিবছর বন্যার পানি প্রবেশ করে। এবারের বন্যায় দুই ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিতে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, গত বুধবার দুর্গত এলাকায় গিয়ে প্রায় সাড়ে ৩০০ পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে ত্রাণের বরাদ্দও পাওয়া গেছে। শিগগিরই পানিবন্দি ও দুর্গত মানুষের মধ্যে আবারও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে।
আরও অবনতির আশঙ্কা
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পানি আরও ৭ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বর্তমানে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পদ্মার পানি বাড়ার ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনে দৌলতপুরের নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ফসল, যোগাযোগব্যবস্থা ও জনজীবনে দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।



