tanaka

ভারতে নানকের কাছে মাসে যায় কোটি টাকা, নেপথ্যে কারা

পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের কাছে বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বরিশাল ও...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকআসামে ভয়াবহ বন্যা: একদিনে প্রাণ গেল ২১ জনের

আসামে ভয়াবহ বন্যা: একদিনে প্রাণ গেল ২১ জনের

ভারতের আসামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যজুড়ে বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের বন্যায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। একই সঙ্গে রাজ্যের ১৬টি জেলার ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে শিবসাগর জেলায়। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বুধবার (২২ জুলাই) থেকে বন্যাদুর্গত এলাকা সফরে যাচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উজানের মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা আসামের মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ ডেকে এনেছে। তিনি চরাইদেও, নজিরা, শিবসাগর, সোনারি, জোরহাট ও তেওকের বন্যাকবলিত এলাকা এবং ত্রাণশিবির পরিদর্শন করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন।

আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (এএসডিএমএ) সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, গোলাঘাট, কামরূপ, হোজাই, ডিব্রুগড়, বিশ্বনাথ, ধেমাজি, সোনিতপুর, উদালগুড়ি, নগাঁও, চরাইদেও, কামরূপ (মেট্রো), জোরহাট, তিনসুকিয়া, কার্বি আংলং, লখিমপুর ও শিবসাগর—এই ১৬টি জেলার মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। মাত্র একদিন আগে ১৫টি জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬৩ হাজারের কিছু বেশি।

সংস্থাটি জানায়, বর্তমানে ৪৪টি রাজস্ব সার্কেলের অধীন ৮৭২টি গ্রাম এখনও পানির নিচে রয়েছে। এর মধ্যে শিবসাগর জেলায় সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩৫ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া জোরহাটে ৮৭ হাজার ৬৬২ জন এবং চরাইদেওয়ে ৭২ হাজার ৬৪৬ জন বন্যাকবলিত হয়েছেন।

বন্যাদুর্গতদের জন্য রাজ্যজুড়ে ৭১টি ত্রাণশিবির চালু করা হয়েছে, যেখানে ১২ হাজার ২৮৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন। পাশাপাশি ২০২টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে শিবসাগর শহর ও নাংলামুরাঘাট এলাকায় দিখৌ ও দিসাং নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া নেমাতিঘাটে ব্রহ্মপুত্র, খোরাংয়ে বুড়িডিহিং এবং গোলাঘাট ও নুমালীগড়ে দক্ষিণ ধানসিরি নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতীয় বিমান বাহিনী, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) এবং ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিসসহ একাধিক সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অন্যদিকে, রেললাইনে বন্যার পানি উঠে যাওয়ায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের (এনএফআর) প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, শিবসাগর জেলার শিমালুগুড়ি ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কারণে মালুগুড়ি-নামতিয়ালি এবং শিমালুগুড়ি-সেলেংহাট রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।