tanaka

নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণ শুরু কাল, ২০ অক্টোবর পর্যন্ত

নতুন পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের (পে ফিক্সেশন) কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার। ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রম। এরপর প্রায় তিন মাসের বকেয়া বেতন একসঙ্গে পরিশোধ করা হবে।
প্রচ্ছদজাতীয়ঐতিহাসিক মহান শিক্ষা দিবস আজ

ঐতিহাসিক মহান শিক্ষা দিবস আজ

প্রতিবছর ১৭ সেপ্টেম্বর পালিত হয় মহান শিক্ষা দিবস হিসেবে। ১৯৬২ সালের এই দিনে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সমাজ পাকিস্তানি শাসন, জাতিগত নিপীড়ন, শোষণ এবং অগণতান্ত্রিক শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে শহীদ হয়েছিলেন ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুলসহ আরও অনেক অজ্ঞাত পরিচয় যুবক। তাদের স্মরণে এই দিনকে শিক্ষা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়।

সেই সময় পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খানের চাপানো অমানবিক ও ছাত্রবিরোধী শিক্ষানীতি ছাত্র সমাজের তীব্র প্রতিরোধের জন্ম দেয়। শিক্ষানীতি বাতিল করে সবার জন্য সমান শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণমুখী, বিজ্ঞানমনস্ক, অসাম্প্রদায়িক ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিতে ছাত্ররা অসামান্য সংগ্রাম করে।

ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আগস্ট থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয় এবং ১৭ সেপ্টেম্বরের বৃহত্তর প্রতিবাদের প্রস্তুতি নেয়া হয়। ঐ দিনে হাইকোর্টের সামনে মিছিল করার সময় পুলিশ গুলি চালায়, যা নির্মমভাবে বহু শিক্ষার্থীকে শহীদ করে—মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজিউল্লাহসহ অসংখ্য ছাত্র প্রাণ হারান। এরপর থেকে নানা সামাজিক, রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠন প্রতিবছর ১৭ সেপ্টেম্বরকে মহান শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

তৎকালীন পরিস্থিতিতে এই আন্দোলন দেশের সর্বত্র ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও হরতালের মাধ্যমে জোরালো হয়। স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের রোষানলে পড়ে ছাত্র ইউনিয়ন ও যুবনেতারা। ১৯৬৪ সালে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগের নয়জন নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়, যাদের মধ্যে ছিলেন রাশেদ খান মেনন, হায়দার আকবর খান রনো, সিরাজুল আলম খান, কেএম ওবায়দুর রহমান প্রমুখ।

উদযাপন ও কর্মসূচি:

আজকের দিনে বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। এ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে গণ ছাত্র সমাবেশ, শিক্ষা অধিকার চত্বরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা ও মিছিল। শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই আজও অব্যাহত এবং এই দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয় শিক্ষার মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন।