tanaka

নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণ শুরু কাল, ২০ অক্টোবর পর্যন্ত

নতুন পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের (পে ফিক্সেশন) কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার। ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রম। এরপর প্রায় তিন মাসের বকেয়া বেতন একসঙ্গে পরিশোধ করা হবে।
প্রচ্ছদজাতীয়আবাসিক প্লটে ‘রহস্যঘেরা’ উড়োজাহাজ

আবাসিক প্লটে ‘রহস্যঘেরা’ উড়োজাহাজ

ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকার একটি আবাসিক প্লটে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে একটি বড় আকারের উড়োজাহাজ। চারদিকে উঁচু দেয়াল ও টিনের ঘেরা প্লটের ভেতরে আড়াআড়ি করে রাখা উড়োজাহাজটি পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অনেকেই অবাক হয়ে ভাবেন, আবাসিক এলাকার ভেতরে, প্রাচীর ঘেরা একটি জায়গায় এত বড় উড়োজাহাজ এলো কীভাবে!

এই প্রশ্নের কোনো সুস্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি। কারণ প্লটটিতে নেই কোনো নামফলক বা পরিচিতিমূলক বোর্ড। স্থানীয়দের মতে, উড়োজাহাজটি এখানে পড়ে আছে প্রায় ৬ থেকে ৯ বছর ধরে। মাঝে মাঝে কিছু শিক্ষক-শিক্ষার্থী এখানে এলেও তারা কারা, কী উদ্দেশ্যে আসেন—তা নিশ্চিতভাবে কেউ জানেন না।

সরেজমিনে দেখা যায়, ১৫ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের ১৩ নম্বর প্লটে রাখা উড়োজাহাজটির চারপাশ ঘেরা সাত ফুট উঁচু দেয়ালে এবং সামনের দিকে টিন দিয়ে ঘেরা। একটি ছোট গেট থাকলেও তা তালাবদ্ধ। প্লটের বাইরে থেকে দেখা যায়, সাদা রঙের উড়োজাহাজটির গায়ে লাল-সবুজ রঙের স্ট্রিপ থাকলেও কোনো এয়ারলাইন্সের নাম বা লোগো নেই। স্থান সংকুলান না হওয়ায় এর ডানা ভেঙে পাশে কাত করে রাখা হয়েছে, ইঞ্জিন ও পেছনের অংশ ঢেকে গেছে ঝোপঝাড়ে। চাকা বসে গেছে মাটিতে।

পাশের এক ভবনের নির্মাণকাজে নিয়োজিত আলী আশরাফ বলেন, “ছয় বছর আগে বড় লরি ও ক্রেন দিয়ে উড়োজাহাজটি এখানে আনা হয়েছিল। মাঝে মাঝে কিছু কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী আসেন। তবে এলাকার মানুষের আগ্রহ সব সময়ই বেশি।”

উত্তরার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ফরহাদ আহমেদ জানান, প্রতিদিন ছেলেকে নিয়ে হাঁটার সময় তিনি উড়োজাহাজটি দেখতে পান। ছেলে প্রায়ই এ নিয়ে প্রশ্ন করে, কিন্তু উত্তর দিতে পারেন না। তিনি বলেন, “বিমানবন্দর তো এখান থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে। এত দূরে আসা উড়োজাহাজ কীভাবে এখানে এল—তা আমরা বুঝে উঠতে পারি না।”

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, এটি সম্ভবত বিমান বহরের পুরনো একটি এফ-২৭ মডেলের উড়োজাহাজ, যা ডাচ কোম্পানি ফকার নির্মিত। ৪৮-৫৬ জন যাত্রী বহনে সক্ষম এই প্লেনগুলো ২০১৯ সালের আগেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল।

চায়ের দোকানি আবুল কালাম জানান, উড়োজাহাজটি প্রথমে অন্য একটি প্লটে রাখা হয়েছিল, পরে স্থান পরিবর্তন করে বর্তমানে যেখানে আছে, সেখানে আনা হয়। তিনি বলেন, “রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছে অ্যারোনটিক্যাল ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ, যাদের অফিস উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর রোডে।”

তবে এখনো পর্যন্ত উড়োজাহাজটির যথাযথ পরিচয়, এর আনয়ন প্রক্রিয়া এবং উদ্দেশ্য নিয়ে রহস্য কাটেনি। স্থানীয়দের কৌতূহল আর প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা।