tanaka

চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম-এর সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার (২৯...
প্রচ্ছদলাইফষ্টাইলবিনোদনসালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ফের পেছাল

সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ফের পেছাল

চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। নতুন করে আগামী ৫ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। পরে আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ৩০ আগস্টও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় ২৯ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের উদ্যোগ

সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে কবর থেকে তাঁর দেহাবশেষ উত্তোলন, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাদীপক্ষের পক্ষ থেকে আপত্তি জানিয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

পরবর্তীতে তাঁর পরিবার থেকে মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হয়। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে তাঁর পরিবার ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়।

এরপর বিষয়টি বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও পিবিআই তদন্তসহ বিভিন্ন পর্যায়ে যায়। পিবিআইয়ের ২০২০ সালের তদন্ত প্রতিবেদনেও সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে ওই প্রতিবেদনও প্রত্যাখ্যান করে আদালতে রিভিশন আবেদন করা হয়।

হত্যা মামলা দায়ের

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে আদালত রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, তাঁর মা লতিফা হক লুসি, চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।

ডন গ্রেপ্তার

মামলাটিতে ইতোমধ্যে খলনায়ক আশরাফুল হক ওরফে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ৯ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তবে ডনের আইনজীবী মামলায় তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতের নির্দেশের ভিত্তিতে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। ফলে তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

৩০ বছর পরও অমীমাংসিত

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে মারা যান সালমান শাহ। তাঁর মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আগের একাধিক তদন্তে মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তাঁর পরিবার শুরু থেকেই হত্যার অভিযোগ করে আসছে।

নতুন হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পরই মামলার অভিযোগ, তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। আগামী ৫ নভেম্বর এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।