প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মালয়েশিয়া ও চীন সফরে তিনি দেশের ও দেশের মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। নিজের অবস্থান থেকে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরা এবং তা রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।
শনিবার (২৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে তাদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। আমাদের দলের একটি স্লোগান রয়েছে—‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশ প্রথম’। আমি আমার দেশের এবং দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়েই কথা বলেছি এবং সেই স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই সফরে কোনো ব্যক্তিগত অর্জনের বিষয় নেই। যদি কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া গিয়ে থাকে, তা বাংলাদেশের অর্জন এবং দেশের মানুষের অর্জন।
তিনি বলেন, “এখানে আমাদের কারোরই ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নেই। যদি ভালো কিছু অর্জিত হয়ে থাকে, সেটি বাংলাদেশের অর্জন। এই সফরের মাধ্যমে দেশের মানুষের কোনো উপকার হয়ে থাকলে, সেটি এ দেশের মানুষেরই অর্জন।”
সংসদের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতাসহ সব সদস্য দেশের স্বার্থে কাজ করার জন্য তাকে উৎসাহ দিয়েছেন। এজন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
এর আগে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার গঠনের চার মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের ভিত্তি ছিল পারস্পরিক মর্যাদা, পারস্পরিক স্বার্থ, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের নীতি।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ধন্যবাদ প্রস্তাব সমর্থন করে বলেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে বিরোধী দল সরকারের পাশে থাকবে। একই সঙ্গে বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিগুলো সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে গত ২১ জুন মালয়েশিয়া যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরদিন আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শেষে তিনি চীন সফরে যান। সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এ সময় চীনের সঙ্গে ১৭টি সমঝোতা স্মারক এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি দলিল বিনিময় করে বাংলাদেশ।



