tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়১৫৫ কোটি টাকাসহ জাফরউল্লাহ পরিবারের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের অনুমোদন

১৫৫ কোটি টাকাসহ জাফরউল্লাহ পরিবারের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের অনুমোদন

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ১৫৫ কোটি ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৮ টাকা এবং ১ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার অবরুদ্ধ করতে আদালতে আবেদন করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজীর আহমেদ এ তথ্য জানান।

দুদক জানায়, কাজী জাফরউল্লাহ, তার স্ত্রী নিলুফার জাফরউল্লাহ, ছেলে কাজী ওমর জাফর ও কাজী রায়হান জাফর এবং মেয়ে কাজী আনসকা মেহরিন জাফরের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা অর্থের তথ্য অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস ও বৈধতা যাচাই করছে কমিশন।

দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি), বিভিন্ন ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা এফডিআরসহ অন্যান্য সম্পদের প্রকৃত উৎস ও বৈধতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে অনুসন্ধান চলছে।

অনুসন্ধানে কাজী জাফরউল্লাহর নামে মেঘনা ব্যাংক পিএলসিতে ২৮ কোটি ৪৯ লাখ ১ হাজার ৭৩০ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসিতে ১৮ কোটি ৬৪ লাখ ৫১ হাজার ৭১৭ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসিতে ৭ কোটি ৫ লাখ ২৮ হাজার ৪০৫ টাকা পাওয়া গেছে। তিন ব্যাংকে তার নামে মোট ৫৪ কোটি ১৮ লাখ ৮১ হাজার ৮৫২ টাকা রয়েছে।

তার স্ত্রী নিলুফার জাফরউল্লাহর নামে মিডল্যান্ড ব্যাংকে ১৮ কোটি ৬৪ লাখ ৮৫ হাজার ১৭ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ৮ কোটি ১৯ লাখ ৪৮ হাজার ৫৭৮ টাকা রয়েছে। তার নামে মোট ২৬ কোটি ৮৪ লাখ ৩৩ হাজার ৫৯৫ টাকা পাওয়া গেছে।

ছেলে কাজী ওমর জাফরের নামে মেঘনা ব্যাংকে ৭ কোটি ১২ লাখ ২৫ হাজার ৯০১ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকে ৯ কোটি ৬১ লাখ ৫ হাজার ১১ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ১৩ কোটি ৫৬ লাখ ৬৯ হাজার ৪৪ টাকা রয়েছে। তিন ব্যাংকে তার নামে মোট ৩০ কোটি ২৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৫৬ টাকা রয়েছে।

অন্য ছেলে কাজী রায়হান জাফরের নামে মেঘনা ব্যাংকে ১২ কোটি ৪২ লাখ ১১ হাজার ৪০৪ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৭৪ হাজার ৮৪৫ টাকা রয়েছে। এছাড়া তার নামে ১ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার রয়েছে। সব মিলিয়ে তার নামে ২৩ কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ২৪৯ টাকা এবং ১ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ ডলার পাওয়া গেছে।

মেয়ে কাজী আনসকা মেহরিন জাফরের নামে মেঘনা ব্যাংকে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ১৩০ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকে ৮ কোটি ৯৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৭৩ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ২০ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৩০২ টাকা রয়েছে। তার নামে মোট ৩১ কোটি ৭৬ লাখ ৮০ হাজার ৭০৫ টাকা পাওয়া গেছে।

দুদক আরও জানায়, এসব সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত হয়ে গেলে রাষ্ট্রের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে উল্লিখিত সম্পদ অবরুদ্ধ করতে আদালতে আবেদন দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. শহীদুর রহমান বিষয়টি অনুসন্ধান করছেন।