চুয়াডাঙ্গায় জেলা ছাত্রদলের এক নেতার শরীরে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতার ছেলের বিরুদ্ধে। মসজিদে নামাজ পড়াকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডার জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় আরও দুজন দগ্ধ হয়েছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের পুকুরপাড়া মোড়ে জামালের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
দগ্ধরা হলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হাসানুজ্জামান, একই এলাকার সিরাজুল ইসলাম (৪২) ও হাসান (৩২)। আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসানুজ্জামান শঙ্করচন্দ্র গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাসানুজ্জামান অভিযোগ করেন, শনিবার রাতে পুকুরপাড়ার একটি চায়ের দোকানে বসে থাকার সময় মসজিদে নামাজ পড়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ কর্মী সুলতান ও বিএনপির নেতাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি এর প্রতিবাদ করলে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে সুলতান দোকানের কেটলিতে থাকা ফুটন্ত গরম পানি তার শরীরে ঢেলে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সিরাজুল ইসলাম ও হাসানের শরীরেও গরম পানি পড়ে। এতে তিনজনই দগ্ধ হন।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত সুলতান শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আত্তাব হোসেনের ছেলে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে শনিবার গভীর রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে যান জেলা যুবদলের সভাপতি শরীফ উর জামান সিজার। তিনি আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দগ্ধ তিনজনের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রানা বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



