tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশমরিয়ম হত্যা মামলায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের যাবজ্জীবন, স্বামী খালাস

মরিয়ম হত্যা মামলায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের যাবজ্জীবন, স্বামী খালাস

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে গৃহবধূ মরিয়ম বেগম হত্যা মামলায় তার শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

তবে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় নিহতের স্বামী আবদুল মতিনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. শামছুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মরিয়ম বেগমের শ্বশুর আবদুল মমিন, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম এবং দেবর মো. নিজাম উদ্দিন।

২০০৫ সালে পারিবারিক বিরোধে হত্যাকাণ্ড

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে নাঙ্গলকোট উপজেলার ছফুয়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে মরিয়ম বেগমকে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

পরদিন নিহতের বাবা মো. সোলেমান বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মরিয়মের স্বামী আবদুল মতিন, শ্বশুর আবদুল মমিন, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম ও দেবর নিজাম উদ্দিনকে আসামি করা হয়।

তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলাটিতে ১২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে সাক্ষ্য-প্রমাণ, মামলার নথি এবং আসামিদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করেন। তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে, মামলায় স্বামী আবদুল মতিনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. ইকরাম হোসেন এবং নিহতের স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা জানান, দীর্ঘদিনের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ রায়ের মাধ্যমে মরিয়ম হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।