tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকদিল্লিতে আধাসামরিক বাহিনীর মোতায়েনকে ‘লজ্জাজনক’ বললেন শশী থারুর

দিল্লিতে আধাসামরিক বাহিনীর মোতায়েনকে ‘লজ্জাজনক’ বললেন শশী থারুর

দিল্লিতে পুলিশের পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনীর ‘যুদ্ধকালীন মোতায়েনের’ তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও জাতিসংঘের সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক শশী থারুর। তাঁর মতে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে নাগরিকদের প্রশ্ন তোলার অধিকার খর্ব করতেই রাজধানীতে এমন কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় থারুর বলেন, রাত ২টার পর দিল্লিতে ফিরে এমন পরিস্থিতি তিনি খুব কমই দেখেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজধানীতে মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা কার্যত কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে নাগরিকেরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে প্রশ্ন তুলতে না পারেন, সে জন্যই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ারও সমালোচনা করেন থারুর। তাঁর ভাষায়, এটি সবচেয়ে পশ্চাৎমুখী ও দমনমূলক পদক্ষেপগুলোর একটি। তিনি বলেন, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন এড়াতে যে সরকার নিজের রাজধানীকেই দুর্গে পরিণত করে, তারা মানুষের সন্দেহ কমানোর বদলে আরও বাড়িয়ে তোলে।

থারুর বলেন, ‘ব্যারিকেড দিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা ফেরানো যাবে না। জনসাধারণের প্রশ্নের জবাব যত দ্রুত দেওয়া হবে, পরিস্থিতি তত দ্রুত শান্ত হবে।’

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বামপন্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার থেকেই দিল্লিতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কার্যত অবরুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে অন্তত পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই আটক করা হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতাদের। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও।

বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে বিমান থেকে নামার পরই আটক করে পুলিশ। এর আগে শনিবার সকালে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও তাঁর বাড়ি থেকে আটক করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবীকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, নিউইয়র্ক টাইমস-এর সাংবাদিক লিদিয়া পলগ্রিন দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, রাজধানীর রাস্তায় পুলিশ যাকে পাচ্ছে, তাকেই আটক করে বাস ও পুলিশের ভ্যানে তুলে নিচ্ছে।